অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা একটি অটোইমিউন রোগ বলে ধরা হয়। এতে মাথার বা দেহের চুল গোলাকৃতি হয়ে উঠে যায়, যেন কোনো পোকা খেয়ে নিয়েছে এমনটা মনে হয়। বলা হয়, আমাদের দেহ ভুলক্রমে আমাদের হেয়ার ফলিকলকেই শত্রু বলে চিহ্নিত করে। শে^তকণিকার মাধ্যমে তাকে নষ্ট করতে পাঠায়। এর ফলে শে^তকণিকা হেয়ার ফলিকলকে আক্রমণ করে, চুল পড়ে যায়।
এতে কোনো ব্যথা বা অন্য উপসর্গ হয় না। রোগী হঠাৎ খেয়াল করে তার মাথা বা দেহের কোনো জায়গা থেকে কিছুটা চুল উঠে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এ ধরনের উপসর্গ দেখে সাধারণত রোগী খুবই ভয় পেয়ে যায়। ফাঁকা জায়গায় হাত বোলালে অনেক সময় আশপাশের চুল হাতে উঠে আসে। এটি মাথাতে বেশি হয়। তবে ভুরুতে, দাড়িতেও হতে পারে।
কাদের হয়
শিশুদের এই রোগটি বেশি হতে দেখা যায়। তবে মহিলা পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। যেকোনো বয়সেই কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। পরিবারে কোনো সদস্যের এই রোগ থাকলে অন্যদেরও এই রাগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, কারণটা জিনগত। তবে এই রোগটি ছোঁয়াচে নয়। এতে শরীরের আর কোনো অসুবিধা হয় না। যাদের কোনো অটোইমিউন রোগ আছে, যেমন থাইরয়েড বা ডায়াবেটিস, তাদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আক্রান্তরা কী করবেন
ঘরোয়াভাবে এই রোগ প্রতিকারের কোনো উপায় নেই। তবে স্ট্রেস নেওয়ার ও প্রয়োজন নেই, অধিকাংশ ক্ষেত্রে, যদি তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে, চিকিৎসায় পুরোপুরি সেরে যায়। একবার এই রোগ হলে দ্বিতীয়বার এই রোগে আক্রান্ত হওয়া আশঙ্কা থেকেই যায়।
চিকিৎসা
অল্প স্থানে চুল চলে যাওয়ার সমস্যা হলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেরে যায়। এ রকম সমস্যা হলে চুল একটু ছোট ছোট করে কেটে নিলে সহজেই কেউ বুঝতে পারবে না।
তবে অনেকটা জায়গাজুড়ে চুল পড়ে গেলে এবং অনেক দিন ধরে এই রোগে ভুগলে আপনা থেকেই সহজে সেরে যাবে না। এর জন্য দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। ছোট জায়গা হলে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয় ওই জায়গাটিতে। ছোট ছোট হালকা ইনজেকশন, ৩-৪ সপ্তাহ অন্তর কয়েকটি ধাপে পুরো চিকিৎসাটি করতে হয়।
স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বা মলম খেতে বা লাগাতে দেওয়া হতে পারে। বিশেষত যদি অনেকটা জায়গাজুড়ে আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে অনেক দিন চিকিৎসা চালাতে হয়, ফলাফল পুরো নাও আসতে পারে।
টপিক্যাল সেন্সিটাইজার বলে কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, সেগুলো লাগাতে দেওয়া হতে পারে।
দেহের অনেক জায়গাজুড়ে বা মাথাজুড়ে হলে অনেক সময় ইমিউনসাপ্রেসিভ ওষুধ যেমন সাইক্লোস্পোরিন বা মেথোট্রিক্সেট খেতে দেওয়া হয়। ওষুধ লাগিয়ে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি লাগানো বা ফটোকেমোথেরাপি আরেক ধরনের চিকিৎসা বিকল্প।
তবে এই চিকিৎসাগুলো অনেক দিন চালাতে হয়, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে বলে রোগীকে সাবধানে থাকতে এবং রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় পুরোপুুরি ফল নাও পেতে পারেন।
এ ধরনের সমস্যা হলে দ্রুতই ত্বক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. জাহেদ পারভেজ
সহকারী অধ্যাপক, চর্ম, যৌন ও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা