ক্যানসার ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন দিক

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ এএম

আতঙ্কের  রোগ হলো ক্যানসার। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় ক্যানসার ম্যানেজমেন্ট ঠিক হলো কিনা এটা জানা। মনে রাখবেন শুধু ধারণা করে ক্যানসার চিকিৎসা হয় না। 

প্রথমত আপনার রোগীর রোগ ধরা পড়েছে কিনা। না পড়ে থাকলে আগে ন্যূনতম মাংসের পরীক্ষায় ধরা পড়তে হবে। মনে রাখবেন ক্যানসার শনাক্ত না করে কোনো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না।

দ্বিতীয়ত এটি কোন পর্যায়ে আছে? রোগ ছড়িয়ে গেছে কিনা। কারণ দুটো ক্ষেত্রে চিকিৎসা ভিন্ন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঙ্গে আরও কিছু পরীক্ষা, যেটাকে আমরা ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি বলি। যার কারণে রোগীর আগে কোন ধরনের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যাবে, এটা নির্ণয় করা যায়। যা তার ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত রোগী কী ধরনের শারীরিক অবস্থায় এসেছেন। যদি শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ থাকে সে রোগীর অপারেশন, কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন ইত্যাদি নেওয়ার উপযুক্ততা থাকেন না। কোনো রোগ মুক্ত করার চিকিৎসা রোগীদের  সুস্থ রাখার জন্য শুরু করা যাবে না।

অর্থাৎ ক্যানসার চিকিৎসা শুরু করার জন্য হাতে অন্য অনেক রোগের থেকে সময় বেশি লাগে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন অনেক বেশি। রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার পরে বা খুব খারাপ অবস্থায় কোনো চিকিৎসাই শরীর নিতে পারে না।

চিকিৎসা শুরু করার জন্য সময় দেওয়া জরুরি।

আগে শনাক্ত জরুরি। এরপর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাও দরকার। কিন্তু এই ধাপগুলো সম্পর্কে সবার জানা আর সচেতনতা বৃদ্ধি ভীষণভাবেই প্রয়োজন।

অনেক রোগী বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে দরকারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত না করে তক্ষুনি সেখানে অপারেশন সম্পন্ন করেন। ফলে ক্যানসার আগে ধরা পড়ার পরিবর্তে অপারেশনের পরে এটি নির্ণয় করা যায় যে, সেটা ক্যানসার ছিল। এ কারণে কাক্সিক্ষত বেঁচে থাকার ফলাফল থেকে বঞ্চিত হন। আর এর পরিণতি আমাদের ক্যানসার রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

মনে রাখবেন আগেই শনাক্ত এবং রোগের পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা দিলে সেই রোগী বাঁচার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

ডা. লায়লা শিরিন

সহযোগী অধ্যাপক জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত