অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নারী ক্রিকেটে প্রথম কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন সোবহানা মোস্তারি। সিরিজের আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেখানে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সঙ্গে ১৯৫ রানের বিশাল জুটিতে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান মোস্তারি। এই পথেই তুলে নেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি।
১২৩ বলে সেঞ্চুরি তুলে তিনি ফিরেছেন ১১৮ রান করে। আর ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ থেমেছে ২২০ রানে। মেয়েদের ক্রিকেটে ওয়ানডে ইতিহাসে এটি তৃতীয় কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সেঞ্চুরি।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েরা এ পর্যন্ত মোট ৫টি সেঞ্চুরি করেছেন। এর মধ্যে ওয়ানডে ফরম্যাটে এসেছে ৪টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ১টি। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে ১০৭ রান করে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়েছিলেন ফারজানা হক, যিনি এই ফরম্যাটে পরবর্তীতে আরও একটি সেঞ্চুরি করেছেন। আর ২০২৫ সালের এপ্রিলে লাহোরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৮০ বলে অপরাজিত ১০১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বাংলাদেশের নারী ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন অধিনায়ক জ্যোতি।
এদিকে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে একমাত্র সেঞ্চুরিটাও এসেছে জ্যোতির ব্যাট থেকেই; ২০১৯ সালে এসএ গেমসে মালদ্বীপের বিপক্ষে ১১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ২০২১ সালে শারমিন আক্তার সুপ্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১৩০ রান করলেও ম্যাচটি অফিসিয়াল ওয়ানডে স্ট্যাটাস না পাওয়ায় সেটি কেবল ‘লিস্ট এ’ সেঞ্চুরি হিসেবেই গণ্য হয়।
এই তালিকায় সবশেষ সংযোজন মোস্তারির আজকের এই নান্দনিক ইনিংস। ১৩৪ বলে ১১৮ রানের এই দুর্দান্ত ইনিংসে কোনো ছক্কা না হাঁকালেও এই ২৪ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার মেরেছেন ১৮টি চার।
তবে শুরুটা ছিল না জ্যোতিদের পক্ষে। ব্রিসবেনে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে আগের ম্যাচের মতো এবারও শুরুটা হয় ছন্নছাড়া। দলীয় ৮ রানের মাথাতেই সাজঘরে শুরুর ৩ ব্যাটার। সেখানেই ত্রাতা হয়ে আসেন মোস্তারি ও জ্যোতি। ১৯৫ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ নিয়ে যান দুইশ ছাড়িয়ে। এটি ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের মেয়েদের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির নজির।
দলীয় ২০৩ রানে মাথায় মেগানের বলে মোস্তারি বোল্ড হয়ে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন জ্যোতি। আগের ম্যাচে ৮৬ বলে স্রেফ ২৯ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলে বেশ সমালোচিত হওয়া দলের অধিনায়ক এই ম্যাচে ১১৪ বলে ৭ চারের মারে করেন ৭৪ রান। অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন মেগান।
টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হাসানের হ্যাটট্রিক