সোলার সেচে বদলে যাচ্ছে নবীনগরের কৃষির চিত্র

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে আউশ ধান চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচব্যবস্থা, কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষকদের অংশগ্রহণে চলতি মৌসুমে উপজেলার পৌরসভার দোলাবাড়ী, সাতমোড়া, রতনপুর ও সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

তিতাস নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ প্রকল্পের অর্থায়নে স্থাপন করা হয়েছে সোলার সেচব্যবস্থা। নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনা মূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এতে একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমি এখন সবুজ ফসলে ভরে উঠেছে।

সরেজমিনে পৌরসভার দোলাবাড়ী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে দুলছে পাকা আউশ ধানের সোনালি শীষ। সেখানে প্রথমবারের মতো প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৯৮ ও ব্রি ধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

দোলাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সরকারের সোলার সেচ স্কিমের কারণে এখন অল্প খরচে সেচসুবিধা পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে আউশ চাষ করেছি। ফসলের অবস্থা খুব ভালো। আশা করছি, বাম্পার ফলন হবে।’

সাতমোড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, ‘গত মৌসুমে কৃষক মন্নান মিয়ার জমিতে বিনা ধান-১৯-এর প্রদর্শনী সফল হয়েছিল। এরপর তিনি বীজ সংরক্ষণ করেন। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনা মূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে চুওরিয়া গ্রামে নতুন করে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে।’

চুওরিয়া গ্রামের কৃষক মন্নান মিয়া বলেন, ‘গত বছরের ভালো ফলনের কারণে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেছি। আমার কাছ থেকে আরও কয়েকজন কৃষক বীজ সংগ্রহ করে আউশ চাষ করেছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাকায় এবার ফলনের সম্ভাবনাও অনেক ভালো।’

পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক নির্দেশনায় দোলাবাড়ী ব্লকে নতুন করে আউশ আবাদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচপ্রযুক্তির কারণে আগামীতে আরও অনাবাদি জমি আউশ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে সোলার সেচ স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়ীতে একসঙ্গে ৭৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। উন্নতমানের বারিড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে। পাশাপাশি কৃষকদের সেচ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় দেড়শ বিঘা অনাবাদি জমিতে নতুন করে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। বোরো মৌসুম শেষে বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিতে স্বল্পমেয়াদি আউশ ধানের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।’

নবীনগরের এই উদ্যোগে অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও কৃষকদের পরিশ্রমের সমন্বয়ে পতিত জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত