ওমরাহ করতে গিয়ে হুথির হামলায় প্রাণ হারালেন মাদ্রাসা শিক্ষক নাসরুল্লাহ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

পবিত্র ওমরাহ পালনের নিয়ত নিয়ে শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মাওলানা নাসরুল্লাহ। স্বজনদের আশা ছিল, প্রিয় মানুষটি পবিত্র ভূমিতে গিয়ে ইবাদত শেষে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু সেই যাত্রা আর পূর্ণ হলো না। সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছেছে বাড়িতে। তিন শিশুসন্তান ও স্ত্রীকে রেখে বিদেশের মাটিতেই শেষ হলো তাঁর জীবনযাত্রা।

নাসরুল্লাহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের ঢালুয়া গ্রামের ওলামা বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে এবং ঢালুয়া জামিয়া রবিউল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের রিয়াদে যান নাসরুল্লাহ। সেখান থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।

বরিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। মুহূর্তেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে।

নাসরুল্লাহর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী মাহহুবা, সাত বছরের ছেলে জামিল, পাঁচ বছরের মেয়ে নাবিলা ও দুই বছরের ছেলে জায়ায। এ ছাড়া তাঁর বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ও মা জাহানারা বেগম রয়েছেন। বাবার মৃত্যুর খবর বুঝে ওঠার আগেই তিন শিশুর জীবনে নেমে এসেছে গভীর অনিশ্চয়তা। স্বজনেরা এখন অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার।

নাসরুল্লাহর বড় বোনের স্বামী মাওলানা নাছির উদ্দীন বলেন, ‘শুক্রবার সকালে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান তিনি। শনিবার বিকেলে আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর পাই। আমরা তাঁর মরদেহ দেশে এনে পারিবারিকভাবে দাফন করতে চাই। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’

এদিকে, নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর শুনেছেন বলে জানিয়েছেন নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু রায়হান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি ভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

পবিত্র ওমরাহ পালনের স্বপ্ন নিয়ে যে মানুষটি দেশ ছেড়েছিলেন, তার আর জীবিত ফিরে আসা হলো না। এখন স্বজনদের চাওয়া, শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটির মুখ দেখা এবং দেশের মাটিতে তাঁকে পারিবারিকভাবে দাফন করা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত