রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০২ এএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া (ক্রিটিক্যালিটি) সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী নভেম্বরেই পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বিদ্যুৎ। গতকাল রবিবার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন থেকে শুরু করে দুটি ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা প্রতিটি ধাপই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপশক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া গত সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে উচ্চচাপে দুই দফা পরীক্ষা সম্পন্ন করে তার ফলাফল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়, যা গত বৃহস্পতিবার অনুমোদন লাভ করে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন মেনে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘বি ওয়ান’ ধাপটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতা কাটার পর শুরু হয়েছে ‘বি টু’ ধাপ, যেখানে চুল্লিকে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

এরপরই শুরু হয় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বা পরমাণু বিভাজনের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন। এর মাধ্যমে চুল্লিতে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর চুল্লির সক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, টারবাইন চালু এবং গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিটিই পৃথক ও সংবেদনশীল ধাপ। এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত