মেহেরপুরে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে বিএনপিতে। বৃহস্পতিবার জেলার ২২ জন নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে বহুভাগে বিভক্ত দলটি। কারণ ডিলারশিপ পেয়েছেন দলের একাংশের শীর্ষ নেতারা। নেতাদের সুপারিশে কোথাও ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা। এদিকে ডিলারশিপ না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষুব্ধ। সার ডিলারশিপ নিয়োগে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাজী মিজান মেনন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লিখেছেন, বিগত ১৭ বছর আন্দোলনে এক নম্বরে ছিলাম। অথচ ঘুষ দিতে না পারায় সার ডিলার তালিকার ৩১ নম্বরেও স্থান হয়নি আমার। ডিলার তালিকায় ছিলাম এক নম্বরে। বড় ভাই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানগং প্রশাসনকে চাপ দিয়ে আমাকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। মেহেরপুর পৌরসভায় সারের ডিলার পেয়েছেন ৫ আগস্ট-পরবর্তী সক্রিয় হয়ে ওঠা বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফের ছেলে তানভির হোসেন। সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনয়িন বিএনপির সাবেক সভাপতি সামসুল আলম খান জানান, এই ইউনিয়নে সারের ডিলার পেয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও কাউন্সিলর ইদ্রিস আলীর ছেলে আতিয়ার রহমান। ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে জেলা বিএনপি তার নাম তালিকাভুক্ত করেছে, যা খুবই নিন্দার।
মেহেরপুরে সার ডিলার নিয়োগে প্রথম দিকে প্রশাসন স্বচ্ছভাবে তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে। কিন্তু আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তীব্র হলে জেলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রী ও মহিলা এমপি সফরে আসেন। সেখানে প্রশাসনসহ সুধীজন ও জেলা বিএনপির সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করেন তারা। মিটিংয়ে উপস্থিত একজন আইনজীবী জানান, সেই মিটিংয়ে সার ডিলারসহ জেলার যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রশাসনকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টনসহ জেলা বিএনপির মতামতকে গুরুত্ব দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর থেকে পাল্টে যায় চিত্র। শুরু হয় প্রায় ৬৫০ আবেদন থেকে ২২টি নাম সিলেকশনে অর্থের প্রকাশ্য প্রতিযোগিতা। ২০ লাখ টাকা ঘুষের ডিলারশিপ পেতে ৬০-৭০ লাখ টাকা হাঁকানো হয়। একপর্যায়ে জেলা বিএনপির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের ডিলারশিপ পাওয়া মোহাম্মদ মামুন কুয়েতে থাকেন। তার পিতা বিজিবির লাইনম্যান। তাহলে বিদেশে বসে তিনি আবেদন করলেন কীভাবে। এক্ষেত্রে জাল স্বাক্ষরে জাল ট্রেড লাইসেন্সসহ আবেদনের সমস্ত স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে।