আমন ধানে ছাতরা পোকার আক্রমণ, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

বালাইনাশক প্রয়োগ করেও মিলছে না প্রত্যাশিত ফল। আক্রান্ত হচ্ছে ধানগাছ, হলদে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে পাতা। ফলন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ এএম

কুড়িগ্রামে আমন ধানের খেতে ছাতরা পোকার (মিলিবাগ) আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ পোকার আক্রমণে ধানগাছের পাতা হলদে হয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক প্রয়োগ করেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

কৃষকদের ভাষ্য, আগের বছরগুলোতে আমন ধানে এ পোকার তেমন আক্রমণ দেখা যায়নি। তবে চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকার ধানখেতে পোকার উপস্থিতি বেড়েছে। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকার ধানখেত ঘুরে দেখা যায়, আক্রান্ত ধানগাছের কাণ্ড ও পাতার খোলে সাদা তুলা বা মোমের মতো আবরণ তৈরি হয়েছে। ওই আবরণের নিচে রয়েছে ছোট ছোট পোকা। আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি। কোনো কোনো গাছ শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছে।

উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের খাওনারদরগা এলাকার কৃষক আকবর আলী বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি এক একর ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ধান ছাতরা পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। এতে এবার তার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাজারহাটের কৃষক জগদীশ চন্দ্র সরকার জানান, তার প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাননি তিনি। পরে আক্রান্ত ধানগাছ কেটে গরুকে খাইয়েছেন।

স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতা কাইয়ুম সরকার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি কীটনাশকের ব্যবসা করছেন। কিন্তু আমন ধানের খেতে এ ধরনের পোকার আক্রমণ আগে দেখেননি। গত বছর দু-একটি গাছে পোকা দেখা গেলেও তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে এবার বিভিন্ন জমিতে এ পোকার উপস্থিতি বেড়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ছাতরা পোকা কোনো রোগ নয়; এটি গাছের রস শোষণকারী ক্ষতিকর পোকা। এর আক্রমণে ধানগাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং পাতা হলদে হয়ে যায়। আক্রমণ তীব্র হলে গাছ শুকিয়েও যেতে পারে। তাঁর ভাষ্য, আগের বছরগুলোতে কুড়িগ্রামের আমন ধানের খেতে এ পোকার উপস্থিতি দেখা যায়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কুড়িগ্রামে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ্ মো. রওশন কবির বলেন, খরার কারণে ধানখেতে ছাতরা পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। এ পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। সঠিক সময়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বালাইনাশক প্রয়োগ করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত