পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুসের সাথে কোন্দল এবং ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার জের ধরে সাময়িক বহিষ্কারের সম্মুখীন হয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এর ঠিক পরপরই সিএনএন পর্তুগালকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে দাবি করেছেন তিনি।
মাঠের সাফল্য ও গোলসংখ্যার যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়ার সাক্ষাৎকারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ৪০ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
সাক্ষাৎকারে নিজের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ১,০০০ অফিসিয়াল গোলের মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যাওয়া নিয়ে রোনালদো বলেন, 'মানুষ আমার বর্তমান ফর্ম কিংবা আমার গোলগুলোকে সেভাবে মূল্যায়ন করছে না। আমি হাজার গোল থেকে আর মাত্র ৮৫ গোল দূরে। বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই হওয়াই ভালো। আমি ৯২০, ৯২৫ কিংবা ৯৩০ গোল যা-ই করি না কেন—আমিই ইতিহাসের সেরা, ব্যাস। সর্বকালের সেরা কে—তা নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। আসল কাজ কেবল গোল করে যাওয়া, আর পরিসংখ্যানই সব কথা বলে।'
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অবসর নিয়ে সিআরসেভেন আরও যোগ করেন, "আমি আমার সন্তানদের নামে শপথ করে বলছি, আমি শুধু বর্তমান মুহূর্ত নিয়ে বাঁচি। আগামীকাল কী হবে আমি জানি না। হয়তো কোনো সকালে উঠে দেখলাম খেলার প্রেরণা হারিয়ে গেছে, আর খেলতে ইচ্ছা করছে না।"
নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে একাদশ বা বদলি হিসেবেও মাঠে নামানো হয়নি রোনালদোকে। স্কোয়াডে নিজের ভূমিকা নিয়ে নতুন কোচ জর্জ জেসুসের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং দলের ক্যাম্প ত্যাগ করার ঘটনায় ত্বরিত পদক্ষেপ নেয় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক অনুশাসনমূলক প্রক্রিয়া।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে বিতর্কিত সাক্ষাৎকারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও কোচ এরিক টেন হাগের তীব্র সমালোচনা করার পর ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি বাতিল হয়েছিল। বর্তমান ঘটনাটি তাঁর ক্যারিয়ারের আরও একটি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পরিসংখ্যানে রোনালদো বনাম মেসি
মাঠের পারফরম্যান্সে লিওনেল মেসি যেখানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে বর্ণাঢ্য এক বিদায় বা সুসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে রোনালদোর জাতীয় দলের অধ্যায় বর্তমানে বিতর্কে আচ্ছন্ন। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানগত তুলনা:
| ক্ষেত্র / অর্জন | ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো | লিওনেল মেসি |
| মোট ক্যারিয়ার গোল | ৯৮০ | ৯৩৪ |
| আন্তর্জাতিক গোল | ১৪৬ | ১২৫ |
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোল | ১৪০ | ১২৯ |
| ব্যালন ডি'অর | ৫ | ৮ |
| বিশ্বকাপ শিরোপা | ০ | ১ |
| মোট অ্যাসিস্ট | ২৬১ | ৪২৬ |
| বিশ্বকাপ নকআউট গোল | ১ | ৭ |
রোনালদোর ভক্তরা তার গোল করার অদম্য ধারাবাহিকতা ও ইউরোপীয় লিগগুলোর দীর্ঘস্থায়িত্বকে সর্বকালের সেরার মাপকাঠি হিসেবে ধরেন। অন্যদিকে, মেসির সমর্থকদের প্রধান যুক্তি তাঁর ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়, অ্যাসিস্টের পাহাড় এবং রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি'অর।
প্রেমের মাঠেও ভিনিসিয়ুসের বিচ্ছেদ