কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালাল খাদ্য উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং দুই দেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এসব খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে থাই ব্যবসায়ীদের আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গতকাল সোমবার থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডের রেনং বন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ বাড়িয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে এ সময় উপদেষ্টা জানিয়েছেন ।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমানো নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সংযোগ গড়ে তুলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য।
উপদেষ্টা জানান, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ; যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা; রেনং-চট্টগ্রাম সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাড়ানো; মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাত তুলে ধরা হয়েছে। এসব খাতে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিজাত পণ্য এবং হালাল খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে থাই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে।
রেনং-চট্টগ্রাম সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে তিনি জানান, থাইল্যান্ডের রেনং বন্দর ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই বন্দরের মধ্যে সংযোগ বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনকে আরও গতিশীল করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
মুক্তবাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, থাইল্যান্ডসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) কাঠামোর সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, শুল্ক সুবিধা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব। তবে লক্ষ্য কেবল বাণিজ্য ঘাটতি কমানো নয়, বরং উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বহুমুখী উদ্যোগ বিষয়ে বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে বিনিয়োগ আলোচনার পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকেও বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। চীনের বিভিন্ন বিনিয়োগ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। জাপানের টয়োটা ও মারুবেনি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল এবং প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার মতে, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।
তিনি জানান, বন্ধ কলকারখানা চালুর ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ ঋণাত্মক সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ অর্থায়নের বিস্তারিত শর্ত ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি তিনি তুলে ধরেননি। সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা। এ লক্ষ্য অর্জনে থাইল্যান্ডের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।