জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তরুণদের নিয়ে দেশের প্রথম বিশেষায়িত যুব কূটনীতি সম্মেলন ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন ২০২৬)। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ফিউচার বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। এ সময় সম্মেলনের লক্ষ্য, প্রতিপাদ্য, বিভিন্ন কমিটি ও অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়।
‘নীতি ও তারুণ্যের সংযোগ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তারুণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে কৃষির অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়ন।
আয়োজকেরা জানান, সম্মেলনে ছয়টি বিশেষায়িত কমিটি থাকবে। এর মধ্যে প্রধান কমিটি হিসেবে থাকছে ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ’। অন্য পাঁচটি কমিটি হলো খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল প্রেস। ইন্টারন্যাশনাল প্রেস কমিটির সদস্যরা সাংবাদিকের ভূমিকায় সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও আলোচনা নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করবেন।
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের ১৬ থেকে ২৬ বছর বয়সী তরুণেরা সম্মেলনে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন। এ লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলা ও আট বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যুব সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিওয়াইএমইউএন ২০২৬-এর মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নীতি কীভাবে তৈরি হয়, তা বোঝার সুযোগ পাওয়ার আগেই তরুণেরা নীতির প্রভাবের মুখোমুখি হন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁদের সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত করা হবে। এতে তাঁরা গবেষণা, ভিন্নমত শোনা এবং একটি কাঠামোবদ্ধ কূটনৈতিক পরিবেশে সমাধান খুঁজে বের করার চর্চা করতে পারবেন।’
সম্মেলনের মহাপরিচালক মো. আসিফুজ্জামান বলেন, ‘সম্মেলনটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রতিনিধিরা গভীরভাবে গবেষণা করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সবার সঙ্গে মিলে একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান। আমাদের লক্ষ্য, তরুণদের এমন একাডেমিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়া, যা ভবিষ্যতে তাদের দক্ষ করে তুলবে।’
সম্মেলনের প্লেনারি প্রেসিডেন্ট মো. সাদমান সারার বলেন, ‘প্রত্যেক প্রতিনিধি, তিনি যে জেলা থেকেই আসুন না কেন, নিজের কথা উপস্থাপনের সমান সুযোগ পাবেন।’
ফিউচার বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক রেদোয়ান আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তারুণ্য। তবে নেতৃত্ব কেবল বক্তৃতার মাধ্যমে তৈরি হয় না, বরং দায়িত্ব পালনের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। এই সম্মেলন সেই অনুশীলনের একটি বড় ক্ষেত্র।’
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি এককালীন কোনো আয়োজন নয়। প্রতিবছর এ মডেল জাতিসংঘ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি নিয়মিত প্রকাশ করা হবে স্মারক ম্যাগাজিন ‘প্ল্যাকর্ড’। সম্মেলনে নিবন্ধন ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে আয়োজকদের ওয়েবসাইট [www.bymun.org](http://www.bymun.org) থেকে।