না ফেরার দেশে গেলেন জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা আরজে মিটে। ১২ অক্টোবর (সোমবার) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে মিটের প্রতিনিধিরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। শন রেইলির দেওয়া এক বিবৃতিতে তাকে একজন প্রতিভাবান অভিনেতা, সমাজসেবক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তার মৃত্যুতে বিনোদনজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২০০৮ সালে প্রচার শুরু হওয়া ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন মিটে। এতে তিনি রসায়নের শিক্ষক ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র বা ফ্লিনের চরিত্রে অভিনয় করেন। সিরিজটিতে ওয়াল্টার হোয়াইটের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ মৌসুমে প্রচারিত সিরিজটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মিতে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন। তার অভিনীত চরিত্রটিরও একই শারীরিক অবস্থা ছিল। নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন তিনি। তার অভিনয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন, অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে দর্শকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সমাজে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন মিটে। তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি এবং শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের দূত হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া মিতে ফাউন্ডেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে কাজ করেছেন তিনি।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর বাইরে ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’, ‘দ্য গার্ডিয়ানস অব জাস্টিস’সহ বিভিন্ন টেলিভিশন সিরিজ ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন মিতে। অভিনয় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তার অবদান তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।