পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ নিহত ৩৫

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১ এএম

পাকিস্তানের পেশোয়ারের একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে পড়ে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার আফ্রিদি আবাদ এলাকার আল খায়ের স্কুলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম জানান, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং ট্রমা ওয়ার্ডে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চিকিৎসাকাজ সরাসরি তদারকি করছেন। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা জানান, ভবনের তিনতলার একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ দোতলার ছাদের ওপর ধসে পড়ে, এরপর সেই ভার নিতে না পেরে একতলার ছাদও ধসে পড়ে। এতে প্রতি তলাতেই একটি করে শ্রেণিকক্ষ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে শিক্ষার্থীরা। তবে আটকেপড়া সবাইকে বের করা গেছে বলে জানিয়েছেন পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার।

রেসকিউ ১১১২ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও দুর্যোগ মোকাবিলাকারী যান পাঠানো হয়। ভবনটির অবস্থান সরু গলির ভেতরে হওয়ায় এবং ছাদটি নিম্নমানের উপাদানে নির্মিত হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হয়। ধ্বংসস্তূপে আরও কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে এখনো অভিযান চলছে। এতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ অফিসার (সিসিপিও) ড. মিয়ান সাঈদ জানান, স্কুলটির মালিককে ইতিমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনিব্যবস্থা হিসেবে মামলা করা হবে। ওই স্কুলটিতে মোট ১১০ শিক্ষার্থী ছিল। দুর্ঘটনার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যোগ দেন।

স্কুলের ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানে ভবন বা ছাদ ধসে পড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর প্রধান কারণ হলো দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণের ব্যবহার। গত জুলাই মাসে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের একটি অংশ ধসে পড়লে ৩ থেকে ১৩ বছর বয়সী তিন শিশু মারা যায়। একই মাসে লাহোরের বাঘবানপুরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়। জুন মাসে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি প্রাইভেট কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়। এর দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজী খান এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের ক্লাসরুমের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত