আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৮ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এখন আরও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা এবং অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে দুদকের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক মহাপরিচালক জানান, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২০ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪১ দিনে ১২১টি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৬১টি মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া দেশজুড়ে ৬১টি এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা এবং একটি ফাঁদ মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে আদালতের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগসংশ্লিষ্ট ৬৮ ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক কিংবা অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়েছে। এ ছাড়া ২২ জনের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক মহাপরিচালক বলেন, বিগত সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ আলোচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান রয়েছে। কিছু অভিযোগের ক্ষেত্রে যৌথ তদন্ত দল বা জেআইটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব দলের কার্যক্রমও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুদকে কোনো ফাইল আটকে নেই, মামলাও থেমে নেই। অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের কাজও চলছে। আইন অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্বে পৃথক কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব বেশি সময় পার হয়নি। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যেসব উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হয়েছে, সেগুলোর তথ্যই ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম নিজস্ব গতিতে চলছে।

সংসদ ভবনের প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার নামে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ : দুদকের তথ্যানুযায়ী, জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে স্থাপিত এসআইএস সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে শতকোটি টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ বিগত সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসআইএস সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। দুদক টিম ঘটনাস্থলও সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। 

এদিকে জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে সংসদ ভবনের প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার নামে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় অনিয়ম এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান দুদক মহাপরিচালক।

বেনজীরকে ফেরাতে দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ : সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো অগ্রগতি আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক মহাপরিচালক বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে। নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে।

সাবেক এমপি রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন : খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাতআয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় একটি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মামলাটি করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত