অবশেষে ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ১ হাজার ৮০৭ জনের মধ্যে ১০৫ জনকে বাদ দিয়ে ১ হাজার ৭০২ জনের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের দীর্ঘ ৪ বছরের একটি প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী গত ১৪ অক্টোবর ওই প্রজ্ঞাপন স্বাক্ষর করেন। গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) প্রজ্ঞাপনটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১ হাজার ৭০২ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ২৬৬ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৭১ জন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে ৯ জন নিয়োগ পেয়েছেন। বাকিরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আনসার, নীরিক্ষা করপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন।
২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন অনুযায়ী ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ১৯ মে, লিখিত পরীক্ষা হয় ২৩ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের জুলাই-নভেম্বর সময়ে মৌখিক ও চূড়ান্ত পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪৬ হাজার, প্রিলিমিনারিতে অংশ নেন ২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জন এবং উত্তীর্ণ হন ১২ হাজার ৭৮৯ জন। পরবর্তী লিখিত পরীক্ষা পর্বে উত্তীর্ণের সংখ্যা আরও কমে হয় ৬ হাজার ৫৫৮ জন। পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ১ হাজার ৮০৭ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ করে। সুপারিশ ও নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় ১০ মাস ১৮ দিন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয় ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২ এর মাধ্যমে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পিএসসির সুপারিশক্রমে এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১ হাজার ৭০২ (এক হাজার সাতশত দুই) জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুসারে ৯ম গ্রেডে টাকা ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০/- বেতনক্রমে নিয়োগ প্রদান করা হলো। নিয়োগের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, (ক) তাঁকে (নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে) বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে; (খ) উক্ত বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে তাঁর চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরকার যেরূপ স্থির করবে, সেরূপ পেশাগত ও বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে; (গ) তাঁকে ০২ (দুই) বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল অনূর্ধ্ব ২ বছর বর্ধিত করতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে যদি তিনি চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হন, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সাথে পরামর্শ ব্যতিরেকে তাঁকে চাকরি হতে অপসারণ করা যাবে : (ঘ) উপানুচ্ছেদ (ক) ও (খ) এ উল্লিখিত প্রশিক্ষণ সাফল্যের সাথে সমাপন, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে অতিক্রান্ত হলে তাঁকে চাকরিতে স্থায়ী করা হবে; (৩) উপানুচ্ছেদ (ক)-এ উল্লিখিত প্রশিক্ষণের জন্য কর্মস্থল হতে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্র্তৃপক্ষের নিকট একটি অঙ্গীকারনামা দাখিল করে তাঁকে প্রশিক্ষণে যেতে হবে। তাঁকে একজন জামানতদারসহ ৩০০/- (তিনশত) টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এ মর্মে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, যদি তিনি শিক্ষানবিশকালে অথবা শিক্ষানবিশকাল উত্তীর্ণ হওয়ার ০৩ (তিন) বছরের মধ্যে চাকরিতে ইস্তফা দেন, তবে প্রশিক্ষণকালে তাঁকে প্রদত্ত বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণ উপলক্ষে উত্তোলিত অগ্রিম/ভ্রমণভাতা/অন্যান্য ভাতাদি ও তাঁর প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয়িত সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে তিনি বাধ্য থাকবেন।
এ ছাড়া ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২ এর ফলাফলের ভিত্তিতে প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী তাঁর জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে; (জ) নিয়োগ-পরবর্তী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো রকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তাঁর ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্র্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে; চাকরিতে যোগদানকালে তাঁকে যোগদানপত্রের সাথে ৩০০/-(তিনশত) টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এ মর্মে একটি বন্ড সম্পাদন করতে হবে যে, তিনি নিজে বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য যৌতুক গ্রহণ এবং প্রদান করবেন না।
ইতোমধ্যে, যদি নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাক্তি কোনো বিদেশি নাগরিককে বিবাহ করে থাকেন অথবা বিবাহ করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে থাকেন, তবে এ নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাক্তিকে তাঁর নিজের ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন দখলে থাকা সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র তাঁকে চাকরিতে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া ১৩ (২) উপবিধি অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর পর পর ডিসেম্বর মাসে প্রদর্শিত সম্পত্তির হাস/বৃদ্ধির হিসাব বিবরণী যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের মুক্তিযোদ্ধার সনদ পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইকালে মিথ্যা বা জাল প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নিয়োগ বাতিল হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। চাকরিতে যোগদানের জন্য তিনি কোনো প্রকার ভ্রমণ ভাতা/দৈনিক ভাতা পাবেন না।
নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আগামী ১৬ কার্তিক ১৪৩৩/ ০১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্র্তৃক নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা হলো। ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ হতে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না পেলে উল্লিখিত তারিখেই তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ যোগদান করবেন। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন মর্মে ধরে নেওয়া হবে এবং এ নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসন (সহকারী কমিশনার) ক্যাডারে ২৬৬ জন, পররাষ্ট্র (সহকারী সচিব) ৯ জন, পুলিশ (সহকারী পুলিশ সুপার) ৭১ জন, আনসার (সহকারী পরিচালক, সহকারী জেলা
কমান্ড্যান্ট/ ব্যাটালিয়ন উপ-অধিনায়ক) ২২ জন, নিরীক্ষা ও হিসাব (সহকারী মহা-হিসাবরক্ষক) ১৯ জন, সহকারী কর কমিশনার ২৯ জন, শুল্ক ও আবগারী (সহকারী কমিশনার) ৫৪ জন, সমবায় (সহকারী নিবন্ধক) সাতজন, সমবায় (পরিসংখ্যানবিদ) একজন, রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক (সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট) চারজন, সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল চারজন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ১২ জন, পরিবার পরিকল্পনা (মেডিক্যাল অফিসার) একজন, সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক/সমমানের পদ তিনজন, খাদ্য (সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী/সমমানের পদ) একজন, রেলওয়ে প্রকৌশল (সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী) একজন, সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী (রেলওয়ে) একজন, সহকারী বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী একজন, সহকারী বন সংরক্ষক চারজন, সড়ক ও জনপথ (সহকারী প্রকৌশলী-সিভিল) ১০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) একজন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ২৯ জন, পশুসম্পদ (ভেটেরিনারি সার্জন/ সায়েন্টিফিক অফিসার/ লেকচারার/ স্টোর অফিসার/সমমানের পদ) ২৮ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা/ কীটতত্ত্ববিদ/প্রকাশনা অফিসার/ ইনস্ট্রাক্টর। বীজ বিশ্লেষক/ নমুনা সংগ্রহ অফিসার/ সমমানের পদ ১৫২ জন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তিনজন, স্বাস্থ্য (সহকারী সার্জন) ৪০১ জন, স্বাস্থ্য (সহকারী ডেন্টাল সার্জন) ৮৭ জন, গণপূর্ত (সহকারী প্রকৌশলী-সিভিল) চারজন, সহকারী প্রকৌশলী ই/এম তিনজন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পাঁচজন, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক বাংলা ২৭ জন, ইংরেজি ২৫ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২২ জন, দর্শন ১৫ জন, অর্থনীতি ২২ জন, প্রাণিবিদ্যা ২২ জন, ইতিহাস ১৬ জন, সমাজকল্যাণ ৯ জন, রসায়ন ২৪ জন, মনোবিজ্ঞান পাঁচজন, ইসলামের ইতিহাস ২১ জন, পদার্থবিদ্যা ২১ জন, উদ্ভিদবিদ্যা ২০ জন, সমাজবিজ্ঞান ছয়জন, গণিত ২০ জন, ভূগোল আটজন, মৃত্তিকাবিজ্ঞান তিনজন, হিসাববিজ্ঞান ২১ জন, মার্কেটিং পাঁচজন, ব্যবস্থাপনা ২১ জন, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং চারজন, কৃষিবিজ্ঞান পাঁচজন, পরিসংখ্যান চারজন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনারশিপ একজন, প্রাতিষ্ঠানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা একজন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ৩৬ জন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারে ইন্সট্রাক্টর টেক/সিভিল ২২ জন, টেক/ইলেকট্রিক্যাল ১৫ জন, টেক/মেকানিক্যাল ১৭ জন, টেক/পাওয়ার ১৪ জন, টেক/ইলেকট্রনিক্স দুইজন, টেক/অটোমোবাইল একজন, টেক/রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং একজন, টেক/কেমিক্যাল একজন, টেক/ফুড একজন, টেক/সার্ভে একজন, নন-টেক/গণিত একজন, নন-টেক/ম্যানেজমেন্ট তিনজন, টেক/ফার্ম মেশিনারি, ভিটিটিআই একজন, টেক/রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, ডিটিটিআই একজন, টেক/মেশিনিস্ট, ভিটিটিআই একজন এবং লেকচারার (টেক/সিভিল) টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ দুজন।