চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা ফ্রান্সিসকো গোমেজ দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিশক্তির জটিলতা ও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। অর্থ সংকটে তার চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তিনি এ নিয়ে একটি পোস্ট দিলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিক রীপার খোঁজ নিতে বলেন। গতকাল শুক্রবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সংগঠনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন গুলিবিদ্ধ নার্সের খোঁজ নিতে বাড্ডার বাসায় যান।
সদস্য সচিব জানান, সামাজিক মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ রীপা গোমেজের পোস্টটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। এরপর তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন। শুক্রবার রাজধানীর মধ্যবাড্ডার বাজার গলি এলাকায় কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রীপা গোমেজের বাসায় যায়। তারা রীপার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর এবং প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ফরহাদ আলী সজীব, রুবেল আমিন, ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের কাছে আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন নার্স রীপা ফ্রান্সিসকো গোমেজ। সেদিন ৪৭টি সীসার ছররা গুলি ও দুটি রাবার বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। সবচেয়ে বড় আঘাতটি লাগে তার ডান চোখের কোটরে। একটি বুলেট মস্তিষ্কের ১৪ সেন্টিমিটার গভীরে আটকে যায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দৃষ্টিশক্তির জটিলতা ও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন রীপা। এ ছাড়া একদিকে নিয়মিত চিকিৎসা ব্যয়, অন্যদিকে শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের সুযোগ কমে যাওয়া সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি। নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাতে এখনো অন্য রোগীদের সেবা করেও জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন এই নার্স।