ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে পূজা, পুষ্পাঞ্জলী দিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই ভিড় করেন ভক্ত-দর্শনার্থীরা। মন্দির প্রাঙ্গণে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে। দেবীর দর্শন ও পূজায় অংশ নিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আসেন অনেকে। সকালজুড়ে মন্দিরে ছিল ভক্তদের আনাগোনা। এদিন সকাল থেকে আইনশৃংখলাবাহিনীকে তৎপর দেখা গেছে।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাস চট্টোপাধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকালে বিল্ববৃক্ষের পূজা করে এর একটি ডাল নিয়ে আসা হয়। পরে সেই ডাল নবপত্রিকার সঙ্গে সংযুক্ত করে পূজা করা হয়েছে। নয়টি পত্রিকার সমন্বয়ে প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়। এ সময় দেবীর মূর্তিতে চক্ষুদান, প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও মহাস্নান করানো হয়। নবদুর্গারও মহাস্নান সম্পন্ন করা হয়েছে। নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে মন্দিরে এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পূজা শেষে অঞ্জলি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৬টায় পূজা শুরু হয়ে সাড়ে ১০টায় শেষ হয়। আগামীকালও সকাল সাড়ে ৬টায় সপ্তমীর পূজা হবে। সপ্তমী তিথি আগামীকাল সকাল ৭টা পর্যন্ত থাকায় অষ্টমীর পূজা না হয়ে সপ্তমীর পূজাই পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপন হচ্ছে। ঢাকা ও সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় আমরা সন্তুষ্ট। আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।’
এদিন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আসেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। তিনি বলেন ‘ঢাকেশ্বরী পূজা কমিটি আয়োজিত দুর্গোৎসবে অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। নেপাল ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ এই উৎসব। দুই দেশেই বর্ণাঢ্য মণ্ডপ, শৈল্পিক প্রতিমা, ভক্তিমূলক সংগীত ও সম্মিলিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হয়। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে নেপাল ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক। একই সঙ্গে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও বাড়ুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সবার জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ বয়ে আনুক দুর্গোৎসব।’
আজ ও আগামীকাল এ দুই দিন সপ্তমী তিথি। এরপর ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় ঢাকা মহানগরীতে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমে গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রত্যক্ষ নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফে নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে নানা প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।