লালনের মানবতার দর্শনে কুমিল্লায় স্মরণানুষ্ঠান

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, লালন সাঁই শুধু একজন বাউল সাধক ছিলেন না, তার গান ও জীবনদর্শন ছিল মানবমুক্তি, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য প্রকাশ। জাত-পাত, ধর্মীয় বিভেদ ও সামাজিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়নের শিক্ষা দিয়েছেন তিনি।

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
জাত-পাতের বিভেদ নয়, মানুষের পরিচয় হোক মানবতায়—বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের গানে ও দর্শনে উঠে এসেছে এই চিরন্তন বার্তা। সেই মানবতাবাদী দর্শনকে ধারণ করে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল লালন সাঁইয়ের বিখ্যাত গান—‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে, লালন বলে জাতের কি রূপ দেখলাম না এ নজরে’।
 
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু।
 
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, লালন সাঁই শুধু একজন বাউল সাধক ছিলেন না, তার গান ও জীবনদর্শন ছিল মানবমুক্তি, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য প্রকাশ। জাত-পাত, ধর্মীয় বিভেদ ও সামাজিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়নের শিক্ষা দিয়েছেন তিনি। তার দর্শন আজও সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রাসঙ্গিক।
 
বক্তারা আরও বলেন, বিভেদ ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গঠনে লালনের মানবতাবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। তার গান মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সাম্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলতে পারে।
 
আলোচনা সভা শেষে লালন সাঁইয়ের গান ও তার জীবনদর্শনভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। গানের সুর ও বাণীর মধ্য দিয়ে শিল্পীরা তুলে ধরেন মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং জাত-পাতের ঊর্ধ্বে মানুষের পরিচয়ের কথা।
 
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল জেলা শিল্পকলা একাডেমি, কুমিল্লা।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত