সুরের মূর্ছনায় ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী লালন উৎসবের উদ্বোধন

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’— বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের এই আধ্যাত্মিক বাণীর অমিয় মর্মার্থ মনে-প্রাণে ধারণ করে যথাযথ মর্যাদায় তার ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক লালন উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মরণ উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন উপলক্ষ্যে লালন একাডেমির মূল মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক প্রফেসর ড. রশিদুন নবী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামসহ অনেকে।

আলোচনা সভা শেষে মূল মঞ্চে লালন একাডেমি ও দেশের বরেন্য শিল্পীরা ফকির লালন শাহের আধ্যাত্মিক দেহতত্ত্ব ও মরমি গান পরিবেশন করেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতায় লালন একাডেমি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রতিবারের মতো এবারও আধ্যাত্মিক গুরু ফকির লালনকে স্মরণ, তাঁর কালজয়ী দর্শন লাভ, অচেনাকে জানা, জ্ঞান অর্জন এবং আত্মার শুদ্ধি ও মুক্তির উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার অনুসারী, সাধু-বাউল ও দর্শনার্থী আখড়াবাড়ীতে সমবেত হয়েছেন। সাধু-বাউলদের সুরের মূর্ছনায় প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে পুরো আখড়াবাড়ী প্রাঙ্গণ। ছোট ছোট খণ্ড আস্তানায় চলছে ভক্তদের আত্মিক মিলনমেলা।

অন্যদিকে, আখড়াবাড়ী চত্বরসংলগ্ন কালী নদীর তীরে বসেছে বিশাল লালন মেলা। উৎসবকে সম্পূর্ণ নিবিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ কয়েক স্তরের নিচ্ছদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক লালন উৎসব আগামী সোমবার রাতে সমাপ্ত হবে।

উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১লা কার্তিক উপমহাদেশের মহান আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহের মহাপ্রয়ানের পর প্রথম দিকে তার অনুসারীরা এবং পরবর্তীতে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এই তিরোধান দিবসের আয়োজন করে আসছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত