চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে মো. রিয়াজ (২২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার কয়েকজন বন্ধুর বিরুদ্ধে। কাঠের বাটাম দিয়ে মারধরে গুরুতর আহত রিয়াজ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের শাহ মজিদিয়া মার্কেট এলাকায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়াজ সদর ইউনিয়নের বারদোনা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের মা রোজিনা আকতারের অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকেলে রিয়াজের বন্ধু মো. শাহাদাত (৩০), মো. জায়েদ (২৫), মো. আব্বাস (৩০), অনিক (৩০) ও মো. ফরহাদ (২৫) তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে শাহ মজিদিয়া মার্কেট এলাকার একটি দোকানে নিয়ে যান। সেখানে রিয়াজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিজের বলে দাবি করেন তাঁদের একজন। এ নিয়ে রিয়াজের সঙ্গে কয়েকজনের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তারা কাঠের বাটাম দিয়ে রিয়াজকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরে রিয়াজের মাথা, নাক ও মুখে গুরুতর জখম হয়। তার মুখের কয়েকটি দাঁতও পড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি ফার্মেসিতে আশ্রয় নেন। তবে হামলাকারীরা সেখান থেকে তাকে টেনে বের করে নাছির নামের এক ব্যক্তির দোকানের সামনে সড়কে নিয়ে আবারও মারধর করেন। পরে তাকে আহত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে চলে যান তারা।
পরে স্থানীয় লোকজন ও রিয়াজের চাচা মো. জহির তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ১৫ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
রোজিনা আকতারের অভিযোগ, বিবাদীদের মারধরের কারণেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ছেলের চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।