মানুষের হক নষ্ট করার পরিণতি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ এএম

মানুষের সঙ্গে আচরণে সামান্য অবহেলাও কখনো বড় অন্যায়ের কারণ হতে পারে। কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা, কাউকে অপমান করা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া কিংবা অন্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা মানুষের হক নষ্ট করার অন্তর্ভুক্ত। অনেকে মনে করেন, নামাজ, রোজা ও অন্য ইবাদত ঠিকমতো পালন করলেই মুক্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু ইসলাম মানুষের অধিকারের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহর হকের পাশাপাশি বান্দার হক আদায় করাও জরুরি। দুনিয়ায় কারও অধিকার নষ্ট করে তার কাছ থেকে ক্ষমা না নিলে আখেরাতে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কি জানো, নিঃস্ব কে? সাহাবিরা বলেন, আমাদের মধ্যে যার কোনো দিরহাম ও সম্পদ নেই, সেই নিঃস্ব। তখন তিনি বলেন, নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামাজ-রোজা নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে হত্যা করেছে কিংবা কাউকে প্রহার করেছে। ফলে তার নেক আমল থেকে এসব অত্যাচারের শিকার ব্যক্তিদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। পাওনা পরিশোধের আগেই তার নেক আমল শেষ হয়ে গেলে তাদের গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মানুষের হক নষ্ট করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। দুনিয়ায় মানুষ ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে অনেক সওয়াব অর্জন করতে পারে। কিন্তু অন্যের প্রতি জুলুম করলে সেই সওয়াব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সম্পদ মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারও জমি দখল করা, পাওনা টাকা আটকে রাখা, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়া কিংবা উত্তরাধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা অন্যের হক নষ্ট করার শামিল। এসব কাজকে অনেকে সামান্য অপরাধ মনে করলেও ইসলামে এগুলো গুরুতর অন্যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত পরিমাণ জমি দখল করে, কেয়ামতের দিন সাত স্তর জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে পরানো হবে। (সহিহ বুখারি)

এ হাদিস অন্যের সম্পদ আত্মসাতের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে। তাই কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়া জরুরি।

মানুষের অধিকার শুধু সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারও সম্মানহানি করা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া কিংবা কারও অনুপস্থিতিতে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, এগুলোও গুরুতর অন্যায়।

কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ালে তার সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এ ধরনের অন্যায় থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারও সম্পর্কে মিথ্যা কথা ছড়ালে তা সংশোধন করা এবং সম্ভব হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়া জরুরি।

লেখক : ইসলামি গবেষক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত