মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি ধরল সিআইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ এএম

অসাধু ব্যবসায়ীরা মিথ্য ঘোষণার মাধ্যমে কম শুল্কে দামি ব্র্যান্ডের পণ্য আমদানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে উচ্চশুল্কের প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশ, নাট-বল্টু, বিয়ারিং ও অন্যান্য পণ্য আমদানির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা খুঁজে পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ। গতকাল শনিবার এনবিআরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, আটটি ঘটনায় পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা, অতিরিক্ত পণ্য আমদানি এবং কাস্টমসের লক করা কন্টেইনারের সিল পরিবর্তনের অপচেষ্টার কারণে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এনবিআর জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েকটি কন্টেইনারের সিল খুলে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। এতে কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন, টুথপিক, প্রিন্টিংয়ের হিট ট্রান্সফার পেপার ও স্টেইনলেস স্টিলের মতো কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে উচ্চশুল্কের নামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, ফেস মাস্ক, অ্যান্টি-এজিং জেল, বিএসটিআই নিষিদ্ধ ক্রিম, লেজার লাইট, গাড়ির দামি ইঞ্জিন পার্টস, বিয়ারিং, নাট-বল্টু ও স্ক্রু পাওয়া গেছে।

এনবিআরের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকার নিউ মার্কেটের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেয়। কিন্তু কন্টেইনার খুলে পাওয়া যায় স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, সিরাম, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও ব্ল্যাক হেয়ার শ্যাম্পু।

পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ করপোরেশনের একটি চালানে চীন থেকে সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। টুথপিকের পাশাপাশি পাকিস্তানের গোরি বিউটি ক্রিম, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস ও যৌন উত্তেজক ডিলে স্প্রে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএসটিআই কর্তৃক নিষিদ্ধ ক্রিমও ছিল।

একইভাবে ঢাকার এইচআর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে এনেছে ইঞ্জিন মাউন্টিং, সাসপেনশন বুশ, আর্ম বুশ, সেন্টার বিয়ারিং, স্প্রিং শ্যাকল ও স্টিয়ারিংয়ের মতো দামি মোটরযান যন্ত্রাংশ। এছাড়া চীন থেকে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য এনেছে নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স। বংশালের নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ এবং ওয়ারীর মোহাম্মাদীয়া ট্রেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের চালানে পাওয়া গেছে অন্য পণ্য।

এনবিআর জানায়, তবে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটেছে কাফ করপোরেশনের আরেকটি চালানে। কন্টেইনারটি ইয়েলো লেনভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকির সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিআইসি ও কাস্টমসের এআইআর শাখা সেটি অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে লক করে রেখেছিল। এরপরও কায়িক পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখের আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর কন্টেইনারটি অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এনবিআর জানায়, কন্টেইনারের মূল সিল ভেঙে সেখানে নতুন সিল লাগানো হয়। বদলি হয়ে যাওয়া কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে এবং বিভিন্ন কৌশলে কন্টেইনারটি সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে নথিপত্র যাচাইয়ে তথ্য মিলেছে। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর কন্টেইনারটি কঠোর নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে জব্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত