ইউরোপে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫১ এএম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) এ বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরো। গত বছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি পোশাকের দাম কমে যাওয়ায় আয় বেশি কমেছে।

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম ছিল ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো। চলতি বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরোতে।  অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি কিছুটা কমার পাশাপাশি প্রতি কেজি পোশাকের দামও কমেছে। এতে রপ্তানির পরিমাণের তুলনায় আয় বেশি কমেছে।

এদিকে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ সময়ে ইইউর দেশগুলো ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। তবে আগস্ট মাসে ইউরোপের বাজারে পোশাক আমদানির চিত্র কিছুটা ভালো ছিল। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে ইইউর পোশাক আমদানির মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। 

ইইউর বাজারে বড় সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে। প্রথম আট মাসে চীনের রপ্তানি আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। দেশটি রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৯৭১ কোটি ইউরোর পোশাক। একই সময়ে চীনের রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দেশটি রপ্তানি করেছে ৩০০ কোটি ইউরোর পোশাক। তবে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। এদিকে ইইউর বাজারে তুরস্কের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ০২ শতাংশ। ভারতের কমেছে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১১ দশমিক ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ১১ দশমিক ০৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, মরক্কোর ৬ দশমিক ১০ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। দেশভেদে রপ্তানির পরিমাণ ও পোশাকের দামের পরিবর্তনেও পার্থক্য দেখা গেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত