টি-টোয়েন্টির আদলে টেস্ট ক্রিকেট

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫২ এএম

প্রায় ১৫০ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমে টেস্ট, এরপর ওয়ানডে আর সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি এ তিন ফরম্যাটে খেলা চলে আসছে। পার্থক্যটা মূলত দৈর্ঘ্য।ে টেস্ট হয় পাঁচ দিনের, ওয়ানডে ৫০ ওভারের আর টি-টোয়েন্টি মাত্র ২০ ওভারের।

এবার ক্রিকেটের সবচেয়ে দীর্ঘ ও সবচেয়ে ছোট ফরম্যাটের সমন্বয়ে আসছে আরেকটি ফরম্যাট টেস্ট টুয়েন্টি। তবে নামের সঙ্গে টেস্ট থাকলেও এই ফরম্যাটে পাঁচ দিন ধরে খেলা হবে না; বরং এক দিনেই শেষ হবে ম্যাচ, খেলা হবে ৮০ ওভার। আর এই ফরম্যাটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য একই দলের হয়ে খেলবেন ছেলে ও মেয়েরা। দুই দলের রান যোগ করে নির্ধারিত হবে একটিই ফল।

ক্রিকেটের নতুন এই ফরম্যাটের যাত্রা শুরু হবে আগামী ১৪ নভেম্বর, শ্রীলঙ্কার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে। ২৯ নভেম্বর হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। আয়োজকদের ভাষায়, ক্রিকেটের চতুর্থ ফরম্যাট হিসেবে পরিচিতি পেতে যাওয়া টেস্ট টোয়েন্টির উদ্বোধনী আসরে অংশ নেবেন ১৩ থেকে ২১ বছর বয়সী ১৬০ জন ক্রিকেটার।

কীভাবে হবে টেস্ট টোয়েন্টির খেলা : টেস্ট টোয়েন্টিতে চারটি মহাদেশীয় দল থাকবে। প্রতিটি দলে খেলোয়াড় থাকবেন ৪০ জন ২০ জন ছেলে ও ২০ জন মেয়ে। অর্থাৎ প্রতিটি দলে ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য থাকবে আলাদা ২০ জনের স্কোয়াড।

একটি ম্যাচে ছেলেদের একাদশ খেলবে ছেলেদের বিপক্ষে, মেয়েদের একাদশ খেলবে মেয়েদের বিপক্ষে। তবে প্রচলিত ক্রিকেটের মতো দুই ম্যাচের ফল আলাদাভাবে নির্ধারিত হবে না। দুই ইনিংসে ছেলে ও মেয়েদের করা রান যোগ করে তৈরি হবে দলের সম্মিলিত স্কোর। যে দলের মোট রান বেশি হবে, জয়ী হবে তারাই।

ধরা যাক, একটি দল মেয়েদের ২০ ওভারে করেছে ১২০ রান, ছেলেদের ২০ ওভারে ১৮০। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাদের স্কোর হবে ৩০০। প্রতিপক্ষের মেয়েরা ১০০ ও ছেলেরা ১৯০ রান করলে তাদের সম্মিলিত স্কোর হবে ২৯০। সে ক্ষেত্রে ১০ রানে জিতবে প্রথম দল।

এই নিয়মের ফলে ছেলে ও মেয়েদের পারফরম্যান্স সমানভাবে প্রভাব ফেলবে ম্যাচের ফলে। এক পক্ষের ভালো পারফরম্যান্স অন্য পক্ষের কম রান বা ব্যর্থতার ঘাটতি পূরণ করতে পারে। আবার এক পক্ষের কম রান পুরো দলের জয়ের সম্ভাবনাও কমিয়ে দেবে।

৮০ ওভারের ম্যাচ, দুই বল ও দুই ধরনের

পোশাক: টেস্ট টোয়েন্টির ম্যাচ হবে এক দিনে, মোট ৮০ ওভারের। তবে পুরো ম্যাচে একই বল বা পোশাকে খেলা হবে না। প্রথম ৪০ ওভার হবে দিনের আলোয়, লাল বলে এবং সাদা পোশাকে। পরের ৪০ ওভার হবে ফ্লাডলাইটের আলোয়, সাদা বলে ও রঙিন পোশাকে।

দুই পর্বের মধ্যে রানের হিসাব নতুন করে শুরু হবে না। প্রথম ৪০ ওভারে করা রান পরের পর্বেও দলের মোট স্কোরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ দুই পর্ব মিলিয়েই নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত ফল।

ছেলে ও মেয়েদের ইনিংস হবে ২০ ওভারের। বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও থাকবে আলাদা নিয়ম ছেলেরা বল করবেন ছেলেদের বিপক্ষে, মেয়েরা মেয়েদের বিপক্ষে। প্রতিটি একাদশে সর্বোচ্চ পাঁচজন বোলার ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজনে একজন বোলার সর্বোচ্চ ছয় ওভার করতে পারবেন। অধিনায়ক চাইলে ইনিংসের দশম ওভার শেষ হওয়ার আগেই এ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

টসের নিয়মেও থাকছে বাড়তি মাত্রা। টসে শুধু কোন দল আগে ব্যাটিং করবে, তা-ই নির্ধারিত হবে না; কোন দলের মেয়েদের একাদশ আগে খেলবে, নাকি ছেলেদের একাদশ সেটিও ঠিক হবে টসে।

হাজার হাজার থেকে বেছে নেওয়া হলো ১৬০ জনকে:

পাঁচটি মহাদেশের হাজার হাজার তরুণ ক্রিকেটার এই টুর্নামেন্টে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। গত ৩০০ দিন ধরে মাঠের এবং অনলাইন ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে গ্লোবাল সিলেকশন কমিটি সেরা খেলোয়াড়দের বেছে নিয়েছে। এই কমিটির সভাপতিত্ব করছেন ভারতের কোচ রাজকুমার শর্মা, যিনি তার শুরুর দিনগুলোতে বিরাট কোহলিকে খুঁজে বের করার জন্য পরিচিত। এ ছাড়া এর উপদেষ্টা বোর্ডে রয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, ম্যাথিউ হাইডেন ও স্যার ক্লাইভ লয়েডের মতো কিংবদন্তিরা।

এই মাসের শেষের দিকে প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে চূড়ান্ত ১৬০ জন খেলোয়াড়কে (৮০ জন মেয়ে ও ৮০ জন ছেলে) টেস্ট টোয়েন্টির প্রতিষ্ঠাতা ব্যাচ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৪ নভেম্বর এবং ফাইনাল ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এই ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত