চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকা থেকে এক পরিবারের ৯ সদস্য গত বুধবার ছুটি কাটাতে কক্সবাজার বেড়াতে আসেন। নিরিবিলি পরিবেশে আনন্দে মাততে তারা উঠেন কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে। গতকাল শনিবার রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে। এতে ওই পরিবারের ৬ সদস্যসহ ১০ জন মারা যান। মুহূর্তেই যেন সাগর থেকে বিষাদের ঢেউ এসে ঢেকে দিয়ে গেল পুরো পরিবেশ।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার বলেন, সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে শিশু ও নারীসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মুখম-লসহ শরীরের অধিকাংশ স্থান পুড়ে যাওয়ায় কোন লাশ কার সেটা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আহত সাতজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুজন সকালে ঘুরতে বের হওয়ায় অক্ষত রয়েছেন। এ ঘটনায় সারা জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উখিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, রিসোর্টটির রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়েছে। আগুনের ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে। যদি কেউ বাদী না হয় সে ক্ষেত্রে পুলিশ হবে।’
বিভিন্ন সূত্রে নিহতদের মধ্যে ৬ জনের নাম-ঠিকানা জানা গেছে। তারা হলেন ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবীর এবং তাদের পাঁচ বছরের পুত্র ফাইজান, ফারিহার ছোট ভাই নাফিজ তেহামী জেরিফ, ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) এবং মিলিতা মেহেজাবীন আলভী (২৩)। চাকরি সূত্রে আট বছর ধরে নুর আলম পরিবারসহ চুয়াডাঙ্গায় থাকেন। নিহতদের মধ্যে নাফিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আলভী ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেসের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। মালিহা, নাবিলা ও আলভী নূর আলমের স্ত্রী ফারিহার খালাতো বোন। তাদের বাবার নাম মো. সেলিম। রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও মুগদা এলাকার বাসিন্দা তারা।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সাতজনের নাম ও পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন ঢাকা মহানগরীর পশ্চিম রামপুরার শিহাব সাদি (৩১), তার স্ত্রী নাফাজা (২৯), মিরপুর ১নং রোডের শিয়ালপাড়ার আবদুল মান্নান (৩৫), তার স্ত্রী ফাহমিদা (৩২), ঢাকার উত্তরার মুহাম্মদ মাসুদ (৩৩), তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা রোমি (৩০) ও ঢাকার আশিক (২৮)।
প্রশাসনিকভাবে আগুন লাগার তাৎক্ষণিক কারণ জানা না গেলেও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, রিসোর্টটির নিচতলা থেকে দ্বিতীয় তলায় ওঠার কাঠের সিঁড়ির নিচে একটি ফ্রিজ ছিল। তার পাশেই গ্যাস সিলিন্ডারসহ রান্নার নানা সরঞ্জাম ছিল। সকাল ৭টার দিকে শর্টসার্কিট হয়ে প্রথমে ফ্রিজে আগুনে লাগে। এরপর সেখান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সেখান থেকে কেউ আর বের হতে পারেননি। যারা বের হয়েছেন, তারা নিজ চেষ্টায় জানালা ভেঙে লাফ দিয়ে বের হয়েছেন।
তাদের দেওয়া তথ্যমতে, রিসোর্টে ২০ জনের মতো পর্যটক ছিলেন। রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট মিলে ১২-১৪ কর্মচারী কাজ করতেন। তারা সেখানেই অবস্থান করতেন। নিহতদের মধ্যে হোটেল কর্মচারীও থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে প্রত্যেক্ষদর্শী সৈয়দ আলম বলেন, ফ্রিজটি সিঁড়ির নিচে থাকায় এবং সেখান থেকেই আগুন লাগায় কেউ সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারেননি। যে সাতজন আহতাবস্থায় বেরিয়ে এসেছেন, তারা সবাই জানালা ভেঙে বের হয়েছেন। দুই-তিনজন দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পাশের নালায় পড়েছেন।
জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য শাহাব উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের আমিরাবাদের নিয়াজ মোহাম্মদ ও বোয়ালখালীর তানভীর আহমেদ যৌথভাবে ২০ শতক জমি কিনে টুপটুপ রেস্তোরাঁটি গড়েছিলেন। এর অনুকূলে ইউপি থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হলেও আবাসন হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার কোনো অনুমতি বা আলাদা ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়নি। রেস্তোরাঁ লাগোয়া চারটি কক্ষ করে পর্যটকদের আবাসিক সুবিধা দিয়ে আসছিল। পরিবার নিয়ে থাকতে গেলে চার রুমে ১২-১৬ পর্যটক অবস্থান করতে পারেন। গতকালও এমন সংখ্যক পর্যটক অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার স্টেশন ইনচার্জ দোলন আচার্য্য বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে প্রথম দুই ঘণ্টা আমাদের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। দুপুর ১২টার মধ্যে আমরা ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করি। দুপুর ২টায় একটি ওয়াশরুম থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করি। বিকাল ৪টায় অভিযান সমাপ্ত করি।’ তিনি বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের সবাই পর্যটক বলা যাচ্ছে না। রেস্তোরাঁর স্টাফও এখানে ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।’
খবর পেয়ে নিহত ছয়জনের আত্মীয় কুমিল্লায় বিজিবিতে কর্মরত ইলিয়াস আমিন কক্সবাজারে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ফুফাতো বোন ও খালাতো বোনের পরিবারের ৯ সদস্য ওই রিসোর্টে ছিল। এর মধ্যে ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা ফারিয়া কবীর এবং তাদের পাঁচ বছরের পুত্র ফাইজান মারা গেছে। এবং তার তিন খালাতো বোন মালিহা, নাবিলা ও আলভীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ফারিয়ার আপন ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিজ তেহমী জেরিফ নিখোঁজ রয়েছে। তবে ডিএনএ ছাড়া বলা সম্ভব নয় কোনটি কার মরদেহ। এখন আমরা ডিএনএ প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছি।’
অনুমতি ছাড়াই চলছিল রিসোর্টটি : জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে তিনতলা টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টটির সামনের অংশে রেস্তোরাঁ হলেও পেছনে ও উপরে আবাসিকের ব্যবস্থা রয়েছে। কাঠ ও বাঁশের তৈরি রিসোর্টটি দেখতে পরিবেশবান্ধব মনে হলেও এটি মাসের পর মাস অবৈধভাবেই চলছিল। শুধু জালিয়াপালং ইউপির একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এ রিসোর্ট চললেও এর বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেনটি সংশ্লিষ্টরা। তবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে রিসোর্টটি ভেঙে ফেলতে নোটিস দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া ফায়ার লাইসেন্স সংগ্রহ করতেও তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার স্টেশন ইনচার্জ দোলন আচার্য্য বলেন, এটি নতুন একটি রিসোর্ট। এর ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। এদেরকে ফায়ার লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, রিসোর্টটি পরিচালনার জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র নেয়নি। তবে ইসি এলাকা না হলে ২০ কক্ষের নিচের কোনো হোটেলের জন্য ছাড়পত্র লাগে না। কিন্তু ৩০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে রেস্তোরাঁর জন্য লাগে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এমএ মান্নান স্বীকার করেছেন যে, রিসোর্টটি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে চলছিল। তিনি বলেন, ‘সরকারি জমিতে স্থাপনা করে অবৈধভাবে বাণিজ্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ব্যক্তিমালিকানধীন জমিতে করা প্রতিষ্ঠান বিধায় প্রশাসন আগবাড়িয়ে খোঁজ নেয়নি। এ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিষয়ে খোঁজ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিসোর্টটি ভেঙে ফেলতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর আগে দুই দফা নোটিস দেয়।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে একটি ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘অগ্নিকান্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের সঙ্গে কথা বলা গেলে আগুনের সূত্রপাত, ক্ষতির পরিমাণ এবং রিসোর্টটির অনুমোদন বা অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান জানান, ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে কোন মরদেহ কার তা জানতে ডিএনএ প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’ : অগ্নিকান্ডের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক নারীকে কান্নার সুরে বলতে শোনা যায় ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও।’ ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী তার ফ্যামিলি নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছিলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সাইফকে বারবার করে ডাকছেন এবং বলছেন আমার সাইফকে আইন্না দাও। তবে সাইফ তার সম্পর্কে কি, বেঁচে আছে কি না তা জানা যায়নি
ডিএন এ পরীক্ষা করেই মরদেহ হস্তান্তর : আগুনে নিহতদের মুখমন্ডলসহ শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে গেছে। এ কারণে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার স্টেশন ইনচার্জ দোলন আচার্য্য বলেন, ‘নিহতদের শরীর পুড়ে গেছে। এতটাই বীভৎস হয়েছে দেখে চেনার উপায় নেই কে কোনজন। তাই ডিএনএ প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।’
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের উপপরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ বলেন, ‘গণমাধ্যমসহ সামাজিক মাধ্যমে যেসব নিহতের পরিচয় মিলছে, এগুলো আমরা দিইনি। হয়তো হোটেল রেজিস্টার থেকে তারা পেয়েছেন। কিন্তু মরদেহ দেখে তাদের চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। এ কারণে আমরা ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, অগ্নিকান্ডের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ আমরা এখনো জানতে পারিনি। এর জন্য জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাদের প্রতিবেদন পেলেই সবকিছু জানা সম্ভব হবে।
৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন : অগ্নিকান্ডের কারণ ও ক্ষতি নিরূপণ করে আইনিব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরা প্রতিবেদন দিলেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, রিসোর্টটি অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। আমি জানতে পেরেছি রিসোর্টটি ভেঙে ফেলতে ইতিমধ্যে দুবার মালিককে নোটিস দিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া রিসোর্টটির পরিবেশ ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্সসহ জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি। সব বিষয় খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।