বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় গত ১০ মাসে বিতরণ হয়েছে ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা মোট প্যাকেজের মাত্র ২০ শতাংশ। এর বাইরে আরও ২ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার অর্থায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সব মিলিয়ে বিতরণ ও প্রক্রিয়াধীন অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা প্যাকেজের ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। তবে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের অর্থায়ন। এ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিভিন্ন খাতে অর্থায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেসব খাতে অর্থ বিতরণের অগ্রগতি কম, সেসব ক্ষেত্রে অর্থায়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালুর জন্য বরাদ্দ করা অর্থ যাতে যোগ্য উদ্যোক্তারা কাজে লাগাতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, রপ্তানি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা দিতে ১৫টি প্রাক্-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে এ অর্থায়ন করা হচ্ছে। তবে প্যাকেজের অর্থ ছাড়ের অগ্রগতি এখনো সীমিত। বিতরণ ও প্রক্রিয়াধীন অর্থ মিলিয়েও মোট বরাদ্দের এক-চতুর্থাংশের কম অর্থের কার্যক্রম এগিয়েছে।
স্কিমগুলোর মধ্যে প্রি-শিপমেন্ট ঋণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির বিশেষ স্কিমে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের চলতি মূলধন তহবিল থেকে ৯০৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, সৃজনশীল অর্থনীতিতে ৫০০ কোটি টাকা এবং কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ২৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে বরাদ্দ করা ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজে অর্থ ছাড়ের অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এ খাতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার অর্থায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অর্থাৎ, বিতরণ ও প্রক্রিয়াধীন অর্থ মিলিয়ে এ খাতের মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশের কার্যক্রম এগিয়েছে।