সোনাগাজীতে ছেলেদের মারামারি থামাতে গিয়ে আহত বাবার ১২দিন পর মৃত্যু

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে ছেলেদের মারামারি থামাতে গিয়ে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হানিফ নামের এক ব্যক্তি ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২০অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হানিফ উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রব প্রাইমারি সংলগ্ন তমিজ উদ্দিন বাড়ির মৃত আব্দুল আহাদের ছেলে। গত ৯ অক্টোবর রব প্রাইমারি এলাকায় ওই মারামারির ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হানিফের দ্বিতীয় সংসারে মেহেদি, মেহরাজ, মিনহাজ ও মিরাজ নামে চার ছেলে রয়েছেন। ঘটনার দিন পারিবারিক বিরোধ ও মাদক সেবন নিয়ে মিনহাজের সঙ্গে তাঁর তিন ভাইয়ের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিন ভাই মিলে মিনহাজকে মারধর করেন। পরে হানিফ তাঁদের থামিয়ে গোসল করতে চলে যান।

মারধরের শিকার হয়ে মিনহাজ বাড়ি থেকে রব প্রাইমারি এলাকায় গিয়ে তাঁর বন্ধু ও পাশের বাড়ির বক্করের ছেলে মামুনকে ডেকে আনেন। তাঁরা রাস্তার ওপর কথা বলার সময় জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পথে মামুনের সঙ্গে হানিফের তর্ক হয়। একপর্যায়ে ছেলের সঙ্গে মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে হানিফ মামুনকে মারধর শুরু করেন। এ সময় হানিফের তিন ছেলে ঘটনাস্থলে এসে বাবার পক্ষ নিয়ে মামুনের ওপর চড়াও হন।

মামুনকে মারধরের খবর পেয়ে তাঁর ভাই শুভ ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে মিনহাজ তাঁর বন্ধু মামুনের পক্ষ নিয়ে নিজের বাবা ও ভাইদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে হানিফ গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, সোনাগাজী হাসপাতালে হানিফের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সোমবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হানিফের দুই স্ত্রী এবং দুই সংসারে পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহের ময়নাতদন্ত করানো নিয়ে দুই স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ প্রথম স্ত্রী জেসমিনের কাছে হস্তান্তর করে। তিনি মরদেহ নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে যান। খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা-পুলিশ সেখানে গিয়ে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে।

এদিকে হানিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসেমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রব প্রাইমারি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিয়াদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে।

ওসি আবুল হাসেম জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। হানিফের প্রথম স্ত্রী থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত