জিহ্বার জড়তা দূর করতে মুসা নবীর দোয়া

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

মানুষের কথা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারা এবং নিজের বক্তব্য সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারা মহান আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি। এ কারণেই ফেরাউনের কাছে যাওয়ার আগে মুসা (আ.) মহান আল্লাহর কাছে নিজের কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার সামর্থ্য চেয়ে দোয়া করেছিলেন।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মুসা (আ.)-এর সেই দোয়া উল্লেখ করেছেন, ‘রব্বিশ রাহলি সদরি। ওয়া এসসির লি আমরি। ওহলুল উকদাতাম মিল্লিসানি। এফকহু কওলি।’ অর্থৎ হে আমার রব! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। আমার কাজ সহজ করে দিন। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। (সুরা তাহা ২৫-২৮)

মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই দায়িত্ব পালনের আগে তিনি আল্লাহর দরবারে কয়েকটি দোয়া করেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিহ্বার জড়তা দূর করার প্রার্থনা। তিনি চেয়েছিলেন, তার বক্তব্য যেন মানুষ সহজে বুঝতে পারে এবং আল্লাহর বাণী যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

শৈশবে মুসা (আ.) ফেরাউনের কাছে প্রতিপালিত হওয়ার সময় একদিন তাকে আঘাত করেন। এতে ফেরাউন ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করতে চায়। তখন ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া (আ.) শিশুটির আচরণের কারণ যাচাই করার পরামর্শ দেন।

বর্ণিত আছে, শিশুটির সামনে এক পাত্রে আগুনের অঙ্গার এবং অন্য পাত্রে মণিমুক্তা রাখা হয়। মুসা (আ.) মণিমুক্তার দিকে হাত বাড়াতে চাইলে জিবরাইল (আ.) তার হাত অঙ্গারের দিকে পরিচালিত করেন। তিনি অঙ্গার মুখে দেওয়ায় জিহ্বা পুড়ে যায়। এ ঘটনার ফলে তার জিহ্বায় জড়তা সৃষ্টি হয় বলে তাফসিরের কিছু বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। (তাফসিরে কুরতুবি ও তাফসিরে মাজহারি)

মুসা (আ.)-এর এই দোয়া থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, দ্বীনের দাওয়াত ও মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে স্পষ্টভাবে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কথা বলার জড়তা বা অস্পষ্টতা দূর করতে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এবং বক্তব্য সুন্দর করার চেষ্টা করা উচিত।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত