ইউরোপের সেরাদের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থানটা আবার মনে করিয়ে দিল পিএসজি। গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-২ গোলে হারানোর পর গত মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনাকেও একই ব্যবধানে হারিয়েছে প্যারিসের ক্লাবটি। মৌসুমের শুরু থেকে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থাকা বার্সেলোনাকে হারানোর পর তাই গর্ব লুকাতে পারেননি পিএসজির মরোক্কান ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি। ‘এমন একটি দলের বিপক্ষে খেললে আপনি তাদের দেখিয়ে দিতে চাইবেন, আমরাই চ্যাম্পিয়ন। আমরা আরও জিততে চাই। আমরা দেখাতে চাই, আমরাও বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, এমনকি এই মুহূর্তে হয়তো সেরা দল’ ম্যাচ শেষে বলেন হাকিমি।
প্যারিসের পার্ক দে প্রঁসে ৩৮ মিনিটে লামিন ইয়ামালের এক ভুল ক্লিয়ারেন্স নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোয়াও নেভেস বল বাড়ান ডেজিরে দুয়ের দিকে। এরপর ঠাণ্ডা মাথার দারুণ এক ড্রিবলিং শেষে সুনির্দিষ্ট নিচু শটে বার্সার জাল কাঁপিয়ে পিএসজিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ফরাসি তরুণ। তবে বিরতির পর ৫৫ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় বার্সেলোনা। পিএসজি রক্ষণের সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার বুলেট শটে বল জালে জড়িয়ে ইউরোপীয় মঞ্চে নিজের প্রথম গোল করেন ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার শাবি এস্পার্ত।
এরপর ম্যাচের শেষ ২০ মিনিট পরিণত হয় চরম নাটকীয়তায়। ৭২ মিনিটে উঁচিয়ে আসা কর্নার থেকে চোখধাঁধানো হেডে পিএসজিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন লুকাস হার্নান্দেজ। বার্সেলোনাও হাল ছাড়েনি; ৭৯ মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে অসাধারণ এক চিপ শটে চমৎকার গোল করে কাতালানদের ২-২ সমতায় ফেরান ইয়ামাল। তবে পিএসজির জয়ক্ষুধাটা যে
থামানোর নয়। এই বার্তা দিয়েই মাত্র ২ মিনিট পর (৮১ মিনিট) বক্সে বাউন্স হওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে ৩-২ করেন ভিতিনহা। আর ৮৬ মিনিটে চতুর ফিনিশিংয়ে কাতালানদের সমতায় ফেরার আশায় শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ফ্যাবিয়ান রুইজ।
উত্তেজনাকর লড়াইয়ের মধ্যেও দুই শিবিরকে পোড়াচ্ছে খেলোয়াড়দের চোটাঘাত। ম্যাচের ১৯ মিনিটে উরুর চোট নিয়ে পিএসজির উসমান দেম্বেলে মাঠ ছাড়েন, আর দ্বিতীয়ার্ধে মাঠ ছাড়তে হয় কাভিচা কাভারাৎস্কায় ও অধিনায়ক মারকিনহোসকে।
ফোডেনের হ্যাটট্রিক ম্যাকালিস্টারের জোড়া
ইতিহাদের নীরব গ্যালারিতে ম্যানচেস্টার সিটির একপেশে আধিপত্য আর অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, দুই ইংলিশ জায়ান্ট জয়ের দেখা পেলেও ম্যাচের চিত্রগুলো ছিল মরুর বিপরীত। একাদশে আর্লিং হালান্ড না থাকলেও লম্বা সময় পর ফেরা ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সিটিজেনরা আর ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে অলরেডরা।
অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরুতেই অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের ভুলের সুযোগ নিয়ে জর্জ মিকাউতাদজে ও সার্জি কার্ডোনার লক্ষ্যভেদে ২৯ মিনিটের মধ্যেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ভিয়ারিয়াল। তবে লিভারপুলকে ম্যাচে ফেরান জয়ের অন্যতম নায়ক অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। ৩৬ মিনিটে কোস্টাস সিমিকাসের নিখুঁত কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান কমান তিনি।
পরে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ১৮ বছর বয়সী তরুণ বিস্ময় রিও এনগুমোহার ক্রস থেকে রেনাল্ড আরাউহোর হেডে সমতায় ফেরে অলরেডরা। আর বিরতির পর শুরু হয় ম্যাক আলিস্টার-এনগুমোহা জুটির আসল চমক। ম্যাচের ৬৫ মিনিটের মাথায় এনগুমোহার মাপা কাটব্যাক থেকে বুলেট গতির শটে দলকে লিড এনে দেন ম্যাক আলিস্টার। এর মিনিট দুয়েক গাকপোর পাস থেকে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ দলের চতুর্থ গোলটি পান। ৮৭ মিনিটে ভিয়ারিয়ালের তানি ওলুওয়াসেয়ি এক গোল শোধ করলেও তা অলরেডদের পেছনে ফেলার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
এদিকে নিজের পারফরম্যান্সের চেয়ে ১৮ বছর বয়সী তরুণ সতীর্থের অবদানকে বেশি বড় করে দেখছেন ম্যাচের নায়ক। ম্যাচ শেষে ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, ‘আজকের রাতে রিও স্রেফ অবিশ্বাস্য ছিল। সেই আসলে ম্যাচের পুরো পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছে।’
এই জয়ে তিন ম্যাচ পুরো ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা পিএসজির ঠিক পিছে অবস্থান করছে লিভারপুল। আর সেই পিএসজির কাছেই হারার পর জয়ে ফেরা সিটি তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে তালিকার ছয়ে।