এআইর নিরাপত্তা ত্রুটিতে বিশ্বের অনেক ওয়েবসাইট বন্ধ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলা ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে।

বাসস জানায়, সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা। পিএইচপি প্রকল্পের ডেভেলপাররা ত্রুটি সংশোধনের আপডেট বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশ করেছেন।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট পরিচালনায় পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। অনলাইন দোকান, সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন সেবাও এ প্রোগ্রামিং ভাষার ওপর নির্ভরশীল। নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোর মধ্যে দুটি গুরুতর দুর্বলতা শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি।

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে তৈরি পিএইচপি নামটির প্রাথমিক অর্থ ছিল ‘পার্সোনাল হোম পেজ’। বর্তমানে এর পূর্ণরূপ ‘হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর’। জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তৈরির বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের পেছনে এ প্রোগ্রামিং ভাষা কাজ করে।

উইজের একটি ব্লগ পোস্টে বলা হয়, পিএইচপিতে শনাক্ত হওয়া এই ত্রুটিগুলোকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এমনকি সফটওয়্যার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর ত্রুটিগুলোর মধ্যেও এগুলো স্থান পেতে পারে।

বর্তমানে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই মডেলগুলো কম্পিউটার কোডের এমন দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারছে, যা বছরের পর বছর মানুষের নজর এড়িয়ে গেছে। এতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে শনাক্ত হওয়া সফটওয়্যার নিরাপত্তা ত্রুটির সংখ্যা গত বছরের রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যেসব ওয়েবসাইট নিজস্ব সার্ভারে পিএইচপি ব্যবহার করে, সেগুলোই মূলত এ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অনেক বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অন্য প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রযুক্তি দল দ্রুত নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধন করতে পেরেছে, সেগুলোর অনেকেই অনলাইন কার্যক্রম চালু রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনি ক্যাম্পাসের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক রাহাত মাসুদ এ আবিষ্কারকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। এ ধরনের ঝুঁকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন অনলাইন সেবাও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

সংশোধিত সংস্করণ তৈরির জন্য ত্রুটিগুলোর বিষয়ে আগেই গোপনে পিএইচপির উন্নয়নকারীদের জানানো হয়েছিল। নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত তথ্যগুলো গোপন রাখা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত