দক্ষ শিকারি কুমির

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ এএম

অত্যন্ত দক্ষ এবং কৌশলী শিকারি কুমির। লাখ লাখ বছর ধরে তারা এমন শিকার কৌশল রপ্ত করেছে, যে কারণে তাদের ‘অ্যামবুশ প্রিডেটর’ বা ‘ওত পেতে থাকা শিকারি’ বলে। শিকারের জন্য কুমির মূলত পানির নিচে লুকিয়ে থাকে। এদের চোখ, কান এবং নাক মাথার ওপরের অংশে। শিকার যখন পানি খেতে বা গোসলের জন্য নদীতে আসে, তখন বুঝতেই পারে না, পানির নিচে কুমির আছে। চোয়ালের চারপাশে কালো কালো বিন্দুর মতো বিশেষ সংবেদনশীল অঙ্গের মাধ্যমে তারা পানির সামান্যতম কম্পন বা তরঙ্গ নিখুঁতভাবে অনুভব করে। কোনো প্রাণী পানিতে নামলে, কুমির চোখ বন্ধ রেখে তার সঠিক অবস্থান এবং দূরত্ব বুঝতে পারে। এরপর শান্তভাবে শিকারের খুব কাছে আসে। তৎক্ষণাৎ শক্তিশালী লেজের সাহায্যে, পানিতে তীব্র গতি তৈরি করে শিকারের ওপর ঝাঁপায়। সেই আক্রমণ এতটা দ্রুত যে, শিকার কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুমিরের চোয়ালে বন্দি হয়। প্রাণিজগতের মধ্যে এদের কামড়ের চাপ অন্যতম সর্বোচ্চ। শিকার যদি আকারে বড় হয়, তাহলে কুমির তাকে কামড়ে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায় এবং নিজের শরীরকে অক্ষ বরাবর তীব্র গতিতে ঘোরায়। একে ‘ডেথ রোল’ বলে। এতে শিকারটি দ্রুত মারা যায় এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সহজে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাতে কুমিরের গিলে খেতে সুবিধা। কুমিরের গড় আয়ু ৩০-৪০ বছর। বন্দি অবস্থায় তারা ৭০-১০০ বছরের বেশি বাঁচতে পারে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত