বয়স্ক মানুষের জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা থাকে। তারা জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পার করে বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেন। তাদের অভিজ্ঞতা পরিবার ও সমাজের জন্য মূল্যবান। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বয়সের কারণে তাদের চিন্তাভাবনাকে পুরনো মনে করা হয়।
ইসলাম মানুষের বয়স, অভিজ্ঞতা ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে উৎসাহিত করেছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা উত্তম চরিত্রের পরিচয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (জামে তিরমিজি)
এই হাদিসে বয়স্কদের সম্মান করার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলা, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনের সময় পরামর্শ নেওয়া এই সম্মানের অংশ। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তাকে অপমান করা কিংবা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা উচিত নয়।
বয়স্ক মানুষের অভিজ্ঞতা অনেক সময় এমন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে, যা তরুণদের কাছে নতুন মনে হয়। তারা জীবনে নানা সংকট মোকাবিলা করেছেন। ফলে কোনো সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তাদের বাস্তব ধারণা থাকতে পারে।
পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বয়স্ক বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদির মতামত উপেক্ষা করলে তাদের মনে কষ্ট সৃষ্টি করতে পারে। যেমন বাড়ি নির্মাণ, সম্পত্তি বণ্টন কিংবা পারিবারিক কোনো সমস্যা সমাধানের সময় তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা নিজেদের অবহেলিত মনে করতে পারেন। তাদের মতামত গ্রহণ করা সম্ভব না হলেও কেন তা গ্রহণ করা যাচ্ছে না, সেটি সম্মানের সঙ্গে বুঝিয়ে বলা উচিত।
বয়স্ক মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া মানে সব ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া নয়। বরং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ গ্রহণ করা। একইভাবে বয়স্কদেরও নতুন প্রজন্মের বাস্তবতা ও চিন্তাভাবনা বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন।
একটি পরিবারে যখন তরুণরা বয়স্কদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করে এবং বয়স্করা তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেন, তখন পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ে। পরিবারে বিরোধ কমে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়।
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার