শিক্ষার্থী নিপীড়ন রোধে কওমি মাদরাসায় হটলাইন-মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী নিপীড়ন ও অনৈতিক আচরণ রোধে শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন, মনিটরিং সেল শক্তিশালী করা এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো মাদরাসায় সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটির অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।

সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বিবৃতিতে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনৈতিক আচরণ ও শিশু নিপীড়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়। যেকোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, শিশু যৌন নির্যাতন দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক সমস্যা। এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; স্কুল, মাদরাসাসহ বিভিন্ন পরিসরে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

তাঁরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নিপীড়ন প্রতিরোধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ দেশের ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড ও এর অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে প্রতিটি মাদরাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন বা বিদ্যমান কমিটি সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন কিংবা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদরাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিলেরও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

হেফাজতের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ জন্য স্কুল ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে সব স্কুল ও মাদরাসাকে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, অনৈতিক আচরণের দায়ে দোষী ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত—উভয় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ বিষয়ে কোনো শিথিলতা বা আপসের সুযোগ নেই।

নেতারা আরও বলেন, আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের শৈশব ও কৈশোরে সুশিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত