চলতি মৌসুমে ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফর্মে থেকে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে বা ছুঁয়ে ফেলছিলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। তবে বার্সেলোনার সোনালী দিনে গড়ার এক রেকর্ডের সুবাস পাওয়া সেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে হঠাৎই বড় ধাক্কা লাগল। দীর্ঘ ১৪ ম্যাচ ধরে ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে টানা গোল বা অ্যাসিস্ট করে যাওয়ার অবিশ্বাস্য এক ধারা বজায় রেখেছিলেন মেসি; কিন্তু আজ নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে মাঠে নেমে সেই রেকর্ডময় ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ল।
সবশেষ লিগস কাপে ১২ আগষ্ট লিওনের বিপক্ষে ম্যাচে কোনো গোল বা অ্যাসিস্টের দেখা পেয়েছিলেন না মেসি। এরপর থেকে সব ম্যাচেই করেছিলেন গোল-অ্যাসিস্ট। সেই অসাধারণ যাত্রাই থামল আজ।
মায়ামিও টানা তিন জয়ের পর দেখল হারের মুখ। আর এই ম্যাচেই মেসিকে নিজের ১৫ বছর আগে গড়া রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটাও হারালেন। ২০১১ সালে বার্সেলোনায় থাকাকালীন টানা ১৭ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছিলেন মেসি, যা ক্লাব-জাতীয় দল মিলিয়ে ম্যাচে যেকোনো ফুটবলারের জন্যই সর্বোচ্চ। সেটার একদম দুয়ারেই পৌঁছে গিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আজকের এই ম্যাচ বাদে নিজের সবশেষ ১৪ ম্যাচে ১৫ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি।
স্পেনে ব্যক্তিগত একটি পুরস্কার গ্রহণ এবং লম্বা ভ্রমণক্লান্তির ধকলের কারণে নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা বেঞ্চ থেকেই শুরু করতে হয়েছিল মেসিকে। তবে তিনি মাঠে নামার আগেই প্রথমার্ধের শুরুর দিকে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্যাসেমিরোর আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ইন্টার মায়ামি।
পরে ম্যাচের ৫৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই চিরচেনা আলো ছড়ানো পথেই এগোন মেসি। তাঁর একটি নিখুঁত ডিফেন্স-স্প্লিটিং পাস থেকে টেলাসো সেগোভিয়ার শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত না হলে সমতায় ফিরতেও পারত মায়ামি। তবে শেষ পর্যন্ত এমিল ফর্সবার্গের গোলে মায়ামিকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক রেড বুলস।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের এই পরাজয় এবং মেসিকে বেঞ্চে রাখার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মায়ামি কোচ ক্রিস্টিয়ান 'কিলি' গঞ্জালেজ বলেন, ‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা আগেই ঠিক করা হয়েছিল। সবাই জানে যে সে বেশ দীর্ঘ একটি ভ্রমণ ক্লান্তি, টাইম জোন পরিবর্তন, তাপমাত্রার তারতম্য এবং আরও অনেক বিষয়ের মধ্য দিয়ে গেছে। আমরা এই বিষয়গুলো পুরোপুরি জানতাম এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম যে, তাকে কোনো ধরনের ইনজুরির ঝুঁকিতে না ফেলাই সেরা উপায়।’
এছাড়া দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ ও নিজের ঘাড়ে দায় নিয়ে মায়ামি কোচ আরও যোগ করেন, ‘মাঝমাঠে আমরা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বলের পজিশন হারিয়েছি, নিজেদের গোলমুখের দিকে ফিরে অনেক বেশি পাস খেলেছি।এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। আমি বিরতিতে ছেলেদের স্পষ্ট বলেছিলাম যে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে; যদিও আমরা সামান্য উন্নতি করেছি, তবুও আমি কিংবা খেলোয়াড়েরা কেউই সন্তুষ্ট নই।’
কাসেমিরোর আত্মঘাতী গোলে মেসিদের হার