দুমকিতে বেহাল সড়কে দুর্ভোগ, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দীর্ঘ ২৫ বছরেও সংস্কার হয়নি ৮৫০ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ সড়ক। ইটের সলিং উঠে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে সাত-আটটি গ্রামের হাজারও মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুরা। দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সহিদ মেম্বার বাড়ি থেকে সৈয়দ শাহআলম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ৮৫০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি ২০০১ সালে ইটের সলিং করা হয়। এরপর দীর্ঘ ২৫ বছরেও সড়কটির সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ স্থানে ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম বিপাকে পড়তে হয় স্বজনদের। অনেক সময় রোগীদের কোলে বা খাটিয়ায় বহন করতে হয়।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জলিশা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও জলিশা তালুকদার ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

জলিশা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল খান বলেন, আমরা চরম অবহেলিত এলাকায় বসবাস করছি। বছরের পর বছর সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ভ্যানচালক মনির হোসেন বলেন, উপজেলা সদরের এত কাছে হয়েও রাস্তাটির এমন অবস্থা। ভ্যান নিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানাই।

জলিশা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম তার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা এমনিতেই প্রতিবন্ধী। চলাফেরা করতে অনেক কষ্ট হয়। তার ওপর রাস্তা ভাঙা থাকায় স্কুলে যেতে আরও কষ্ট হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের দাবি, রাস্তাটি পাকা করে দিন, যাতে আমরা গাড়িতে করে স্কুলে যেতে পারি।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মঈনুল আজম বলেন, সড়কটি জেলার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) অন্তর্ভুক্ত থাকায় এত দিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই নতুন ডিপিপি তৈরি হচ্ছে। এতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত হলে দ্রুত পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত