বিভিন্ন দাবি রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে ডাকা ‘অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ’ গড়িয়েছে চতুর্থ দিনে। ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের’ যৌথ আহ্বানে চলা এই অবরোধের ফলে পুরোপুরি পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে এই পর্যটন কেন্দ্র। উদ্ভূত সংকট নিরসন ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের উদ্দেশ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, আন্দোলনের শুরু থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি আন্দোলনকারীরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করায় আলোচনার নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এই আন্দোলনের সঙ্গে “কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের” নাম যুক্ত রয়েছে, সে কারণে আমরা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছি।’
তিনি জানান, সভায় রাঙামাটির তিনজন বিশিষ্ট হেডম্যান ও কার্বারীকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে খাগড়াছড়ির প্রতিনিধিরাও সম্পৃক্ত থাকবেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজানের মধ্যস্থতায় দ্রুতই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমেই শিগগির সংকটের অবসান ঘটবে এবং সাজেক আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে। জরুরি এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিবসহ বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বালীবৃন্দ।
অন্যদিকে, গত ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবু ধন চাকমা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত এলাকা থেকে অপসারণ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
অবরোধের সমর্থনে সড়কে দৃশ্যমান কোনো পিকেটিং না থাকলেও পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সাজেক এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সর্বসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন পাহাড়ের সাধারণ মানুষ।
তৃতীয় দফায় অবরোধে বন্ধ সাজেক, বিপাকে পর্যটকরা
৩ দফা দাবিতে সাজেকে চতুর্থ দিনের অবরোধ
সাজেকে সংঘাত: কাল দুই পার্বত্য জেলায় সড়ক-নৌপথ অবরোধ
অবরোধে গোলাগুলি: পর্যটকশূন্য সাজেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ