আদমজী ইপিজেড কাস্টমসে ওজন কারচুপি, কোটি টাকার শুল্ক বঞ্চিত সরকার

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে কাস্টমসে ওজন কারচুপিতে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার শুল্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেপজার সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ নারায়ণগঞ্জ জেলার ডিসি ও এসপি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

ইপিজেডের গার্মেন্টস কারখানায় প্রতি ট্রাকে কমপক্ষে ১৫ টন ওয়েষ্টেজ ও গার্বেজ বোঝাই করার পর কারখানার গেটে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ওজন কারচুপি করে প্রতি ট্রাকে ১ টনেরও কম মালামাল দেখিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা শুল্কায়ন করছে। এতে ট্রাক প্রতি ১ লাখ টাকারও বেশি শুল্ক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আদমজী ইপিজেড থেকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই শতাধিক ট্রাক মালামাল পরিবহন হওয়ায় সরকার প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার শুল্ক হারাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট অফিসের অনলাইন এসেসমেন্টের কপি, ডেলিভারী তথ্য ও অন্যান্য ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করলেই ওজন কারচুপির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি উম্মোচিত হবে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জে তিনশত একর জমির উপরনির্মিত আদমজী ইপিজেডে শতাধিক কারখানা স্থাপিত হলেও ৬২টি রপ্তানিমূখী কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ ওয়েষ্টেজ ও গার্বেজ হয়। এসব মালামালের পরিমাণের উপর কাস্টমস কর্তৃক নির্ধারিত শুল্ক ধার্য্য করে তা পরিশোধ সাপেক্ষে চালানের মাধ্যমে ইপিজেডের কাস্টমস বন্ডেড এলাকা থেকে ডেলিভারি হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ট্রাকে থাকা ওয়েষ্টেজ ও গার্বেজের ওজন কারচুপি করে শুল্ক ফাঁকি দেয়ায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জনৈক এক ব্যবসায়ী বেপজা, আদমজী ইপিজেড, কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার ডিসি ও এসপি’র বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগকারী বলেন, আমরা চাই ট্রাকে থাকা মালের প্রকৃত পরিমাণের শুল্ক আদায় হোক। কিন্তু একটি অসাধু চক্র ওজন কাচুপির কারণে সরকার প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এর প্রতিকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেই বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, অনলাইন এসেসমেন্টের রেকর্ড বিশেষ করে ট্রাকে থাকা মালামালের পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট কারখানার চালান ও গেট পাস, কারখানার ওয়েস্টেজ/ স্ক্র‍্যাপের বিক্রয়-সংক্রান্ত হিসাব, ওজনের তথ্য, অনলাইন এসেসমেন্ট এবং আদায়কৃত রাজস্ব- পরস্পরের সঙ্গে এসব তথ্য ক্রস চেক করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এ সংক্রান্ত সব ডকুমেন্ট তার কাছে রক্ষিত আছে বলেও তিনি দাবি করেন।

গতকাল সরেজমিনে আদমজী ইপিজেডের কাস্টমস গেটে দেখা যায়. প্রতি ট্রাকে প্রায় ১৫ টন ওয়েষ্টেজ ও গার্বেজ মালামাল বোঝাই একাধিক ট্রাক অপেক্ষা করছে। যেখানে কাস্টমসের এসেসমেন্টে এক টনেরও কম উল্লেখ থাকে। এসময় নিরাপত্তা কর্মীরা জানায়, প্রতিটি ট্রাকে ১২/১৪ টনেরও বেশি মালামাল রয়েছে। ট্রাকের ছবি তুলতে গেলে নিরাপত্তা কর্মীরা ছবি তুলতে বাধা দেন। এসময় ট্রাকচালক হান্নান, জামাল, আনোয়ার, শহিদসহ একাধিক ট্রাক চালক জানায় ব্যবসায়ীরা ট্রাকে যত বেশি সম্ভব মাল বোঝাই করে। সেখানে ১৫ থেকে ১৬ টন পর্যন্ত হয়ে যায়।

এ বিষয়ে আদমজী ইপিজেডের কাস্টমস আবুল হাসেম ভূঁইয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য এক কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রাকে থাকা মালামালের শুল্কায়ন করছি। এসময় একটি এসেসম্যান্ট কপি দেখিয়ে “১ ট্রাক ও ১ পিক আপ ওয়েস্টেজ এবং ১০ ট্রাক গার্বেজের পরিমাণ সরেজমিনে ৯ হাজার ৫শ কেজি পেয়েছি যার মূল্য তালিকা অনুযায়ী শুল্কায়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ওয়েষ্টেজ ও গার্বেজ মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা শুল্ক হারাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অভিযোগকারীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

 

 

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত