মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সিনিয়র ক্যাম্পে প্রথমবার ডাক পেয়েছেন মাহি খান। তরুণ এই ফরোয়ার্ডের চোখ এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপায়। তবে শিরোপার স্বপ্নের পাশাপাশি তাঁর রোমাঞ্চের আরেকটি বড় কারণ, শৈশবের আদর্শ হামজা চৌধুরীর সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ। সাফ সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের আবাসিক ক্যাম্প শুরু হয়েছে।
সোমবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন ২৩ জন ফুটবলার। প্রথমবার সিনিয়র দলের ক্যাম্পে সুযোগ পেয়ে নিজের আনন্দ ও আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন মাহি। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। এতে আমি নিজে যেমন গর্ববোধ করছি, তেমনি আমার পরিবারের সবাই ভীষণ খুশি।’
বাংলাদেশের আক্রমণভাগে প্রকৃত নম্বর নাইন বা গোলমুখী স্ট্রাইকারের অভাব পূরণের লক্ষ্যেই মাহিকে দলে ডেকেছেন কোচ টমাস ডুলি। নিজের ওপর আস্থা আছে এই তরুণেরও। তাঁর বিশ্বাস, কোচের পরিকল্পনা মাঠে ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে গোল পাওয়া সম্ভব। মাহি বলেন, ‘আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। ক্যাম্পে আসার আগেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। কোচ আমার কাছে কী প্রত্যাশা করছেন, তা আমি স্পষ্ট জানি। মাঠে তাঁর পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। আশা করি, গোল পাব।’ গুরুত্বপূর্ণ এই পজিশনে খেলার চাপ অবশ্য স্বীকার করেছেন মাহি। তবে নিজের সামর্থ্যরে ওপর বিশ্বাস থাকায় খুব বেশি নার্ভাস নন তিনি। একাদশে সুযোগ পেলে সেরাটা দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
সম্প্রতি উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সফর প্রত্যাশামতো হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সিনিয়র দলের হয়ে ভালো করতে চান মাহি। তাঁর ভাষায়, ওই সফরে দল কিছুটা নার্ভাস ছিল এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। তবে সেখান থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চান তিনি। মাহির কাছে বাংলাদেশের ফুটবলের পোস্টার বয় হামজা চৌধুরীর সঙ্গে খেলার সুযোগটি বিশেষ কিছু। ছোটবেলা থেকেই লেস্টার সিটিতে হামজার খেলা দেখেছেন তিনি। লেস্টার তাঁর বাসার কাছাকাছি হওয়ায় ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই হামজার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।
মাহি বলেন, ‘আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। ছোটবেলা থেকেই লেস্টার সিটিতে হামজার খেলা দেখে আসছি। সেই ছোটবেলা থেকে যাঁকে দেখে বড় হয়েছি, এখন তাঁর সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ এসেছে—এটি আমার জন্য বিশাল এক সম্মানের ব্যাপার।’ হামজার অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগকেও বড় প্রাপ্তি মনে করছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত রোমাঞ্চের চেয়ে দলের সাফল্যই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাহির আশা, সবাই কঠোর পরিশ্রম করলে বাংলাদেশ এবার সাফের শিরোপা জিততে পারবে।