ছায়ানটে আব্বাসউদ্দীন স্মরণে শ্রোতার আসর, শিল্পকলায় বিশেষ অনুষ্ঠান

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

বাংলা লোকগানের কিংবদন্তি শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ শ্রোতার আসরের আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছায়ানট মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। ‘নদীর কূল নাই, কিনার নাই’ শিরোনামে এ আসরে সংগীত পরিবেশন করেন প্রিয়ন্তু দেব, সুমন মজুমদার, মোছা. শরিফা খাতুন, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, মো. আবুল কালাম আজাদ, চন্দনা মজুমদার ও কিরণ চন্দ্র রায়।

অনুষ্ঠানের সূচনা কথনে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, 'আব্বাসউদ্দীন আহমদ আমাদের লোকগীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এবং একটি বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত করেছেন। অঞ্চলভিত্তিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে তৈরি এসব গানকে সুর ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তিনি সংহতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক করে তুলেছিলেন।'

তিনি বলেন, ‘আব্বাসউদ্দীনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো, তিনি সমৃদ্ধ এই লোকগীতিকে গ্রামীণ পরিমণ্ডল থেকে বের করে নাগরিক সমাজের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। লোকসংগীতকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় যাদের অবদান রয়েছে, তাদের মধ্যে আব্বাসউদ্দীনের নাম তালিকার শুরুতেই থাকবে।’

কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আব্বাসউদ্দীন আহমদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ছিল উল্লেখ করে সারওয়ার আলী বলেন, ‘আব্বাসউদ্দীনের প্রেরণা, উৎসাহ ও বারবার তাগিদে নজরুল অনেক ইসলামী গান রচনা করেন। “রমজানের ওই রোজার শেষে” গানটি আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। গানটির জনপ্রিয়তার পেছনে আব্বাসউদ্দীন আহমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে প্রিয়ন্তু দেব পরিবেশন করেন ‘এ কোন মধুর শরাব দিলে’ এবং ‘বসিয়া নদীকূলে, এলোচুলে কে উদাসিনী’। গান দুটির রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। সুমন মজুমদার পরিবেশন করেন ‘খাতুনে-জান্নাত ফাতেমা জননী’, ‘তোমার আকাশে উঠেছিল চাঁদ’ ও ‘সাধ জাগে মনে পরজীবনে’।

শরিফা খাতুনের পরিবেশনায় ছিল ‘ফাঁদে পড়িয়া বগা’ ও ‘ও কি একবার আসিয়া’। প্রথম গানটি সংগৃহীত এবং দ্বিতীয়টির রচয়িতা আবদুল করিম। বিমান চন্দ্র বিশ্বাস পরিবেশন করেন ‘আমায় এত রাতে ক্যানে ডাক দিলি’, ‘গুরুর পদে প্রেম ভক্তি হল না মন’ ও ‘আমার হাড় কালা করলাম রে’। প্রথম ও তৃতীয় গানটির কথা জসীম উদ্দীনের এবং সুর সংগৃহীত। দ্বিতীয় গানটির কথা সংগৃহীত, সুর করেছেন কানাই লাল শীল।

মো. আবুল কালাম আজাদের পরিবেশনায় ছিল ‘নদীর কূল নাই কিনার নাই রে’, ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’ ও ‘আবো নওদারিটা মরিয়া’। প্রথম গানটির রচয়িতা জসীম উদ্দীন। বাকি দুটি গান সংগৃহীত।

চন্দনা মজুমদার পরিবেশন করেন ‘প্রাণ সখী রে’, ‘নদীর নাম সই অঞ্জনা’ ও ‘ওই না মাঝবী বনেতে লুকাইছে’। ‘প্রাণ সখী রে’ গানটির রচয়িতা জসীম উদ্দীন। ‘নদীর নাম সই অঞ্জনা’ গানটির কথা কাজী নজরুল ইসলামের, সুর আব্বাসউদ্দীন আহমদের। ‘ওই না মাঝবী বনেতে লুকাইছে’ গানটির কথা সংগৃহীত, সুর গ্রাম্য।

কিরণ চন্দ্র রায়ের পরিবেশনায় ছিল ‘ও পরানের মাঝি’, ‘কোনবা রঙে বাইন্ধাছো ঘরখানি’ ও ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’। ‘ও পরানের মাঝি’ গানটির কথা আশুতোষ চৌধুরীর, সুর চিত্ত রায়ের। ‘কোনবা রঙে বাইন্ধাছো ঘরখানি’ গানটি সংগৃহীত। ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ গানটির কথা সংগৃহীত, সুর গিরিশ চক্রবর্তীর।

অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন তবলায় গৌতম কুমার সরকার, দোতারায় রতন কুমার রায়, ঢোলে দশরথ দাস, বাঁশিতে মামুনুর রশীদ এবং মন্দিরায় প্রদীপ কুমার রায়।

শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদকে স্মরণে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিও আয়োজন করে বিশেষ অনুষ্ঠান। আজ সন্ধ্যায় এতে সংগীত পরিবেশন করেন একাধিক শিল্পী।

রেজাউল করিম লিমন পরিবেশন করেন ‘প্রাণ সখীরে, ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’ এবং ‘পরের অধীনে কইরাছে আমায়’। এরপর নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন রাহাত আরা গীতি। নোশীন লায়লা পরিবেশন করেন ‘সে যেন কি করলোরে আমায়’ এবং ‘আমায় এত রাত কেন ডাক দিলি প্রাণ কোকিলারে’। সালাউদ্দিন আহমদ পরিবেশন করেন ‘ভুলে যেও ভুলে যেও’ ও ‘কুঁচবরণ কন্যারে তোর মেঘবরণ কেশ’। অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল পরিবেশন করেন ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’।

সবশেষে আব্বাসউদ্দীন সংগীত একাডেমির শিল্পীরা সমবেতভাবে পরিবেশন করেন ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ এবং ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক ছিলেন গবেষক ও সংগীতশিল্পী অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহা. হারুন-অর-রশীদ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত