সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

আশুলিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় কারখানায় হামলা-লুটপাট

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

চাঁদা না দেওয়ায় আশুলিয়ার একটি সোয়েটার কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে ভুক্তভোগীকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে ভুক্তভোগী আদালতে মামলা দায়ের করলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ফলে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন শ্রমিকসহ নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আহাদুজ্জামান। বর্তমানে কারখানায় কাজ বন্ধ থাকায় যেকোনো সময় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কাও করছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন এন ডি কারখানাটির চেয়ারম্যান আহাদুজ্জামান।

তিনি জানান, ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে আশুলিয়ার মধ্য গাজিরচট রশিদ মার্কেট এলাকায় এন ডি সোয়েটার ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি ছাত্রদলের আশুলিয়া থানা শাখার সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসাইন ও কর্মী কবির হোসেন শিশির, মো. মোখেলেছ, মো. জালাল, তোফাজ্জল হোসেন, সোহেল খন্দকার ও রকিসহ কয়েকজন তার অফিসে গিয়ে প্রথমে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে না চাইলে তারা এক কোটি টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে গত ২২ তারিখ ৪০/৫০ কিশোর গ্যাং সদস্য মাথায় হেলমেট পরে রামদা, লোহার রড, শাবল, হাতুড়ি, হামার, হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরির বিল্ডিং শেডের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। শ্রমিকদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সোয়েটারের সুতা, বডি, বিভিন্ন অ্যাকসেসরিজসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে। এ সময় ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের বের করে দেন। কিন্তু পরের দিন আবার তারা হামলা চালায়। এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় গেলে পুলিশ মামলা-জিডি নেয়নি। পরে ওসি আদালতে গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে কারখানা বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতিতে রয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আহাদুজ্জামান তার বাবা ও চাচাদের কাছ থেকে প্রায় ৫ বিঘা জমি ভাড়া নিয়েছেন। কিন্তু ১০ বছর ধরে ভাড়াও দেন না, জমিও ছাড়েন না। ভাড়া বাবদ তারা কোটি টাকারও বেশি টাকা পাবেন। টাকার জন্য তার সন্ধান করেও পাওয়া যায় না। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদার অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান তিনি।

আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত