ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মেরামতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা নেত্রকোনাগামী একটি বাসের যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণহীন লরি চাপা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন।
গত সোমবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরা এলাকায় রয়েল সিমেন্ট গেটের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শাপলা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় পৌঁছালে বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে চালক বাসটি মহাসড়কের পাশে থামিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেন। এ সময় বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী নিচে নেমে সড়কের পাশে রাখা কাঠের গুঁড়ির ওপর বসে অপেক্ষা করছিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকামুখী দ্রুতগতির একটি কনটেইনারবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেনÑ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকার ফাতেমা আক্তার (৩৮), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার বেতাল এলাকার আবসা (৪৪), একই জেলার মদন থানার জাউলা এলাকার স্বপ্না আক্তার (৩০) ও নেত্রকোনার মদন থানার শিবাশ্রম এলাকার রাকিব (৬)। তবে নিহত আরেকজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত রাকিবের বাবা আজহারুল ইসলাম, মা ফাতেমা বেগমসহ আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসিা শামীম আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।