এখনো খোলেনি ব্যাংক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর রহস্যজট 

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

রাজধানীর বেসিক ব্যাংকের বংশাল শাখার রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম শেখের মৃত্যুর রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। তার মৃত্যু দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে পরিবার। একই সঙ্গে ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর ব্যাংকের বংশাল শাখার রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ইব্রাহিমের শরীরে আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ অক্টোবর রাত ৮টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের সোনারহাট এলাকায়।

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বংশাল থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপক তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানাননি। বরং মামলা করতে চাইলে ব্যবস্থাপকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাঁদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেন।

ইব্রাহিমের মৃত্যুর পেছনে পরিকল্পিত কোনো ঘটনা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তার স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে সহকর্মী কালামের সঙ্গে ইব্রাহিমের বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই সময় তাঁকে চেয়ার দিয়ে মারধর করা হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের। এসব ঘটনার সঙ্গে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইব্রাহিমের ছেলে মো. বায়জিদ শেখ বলেন, ব্যাংকের রান্নাঘরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তাঁদের এখনো দেখানো হয়নি। বিস্ফোরণের আগে ও পরে সেখানে কী ঘটেছিল, তা জানতে ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফুটেজ সংরক্ষণ এবং কোনোভাবে তা মুছে ফেলা বা নষ্ট করা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর ঘটনাস্থলের কিছু আলামত নষ্ট বা মুছে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বা সংশ্লিষ্ট কারও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে তারা।

স্বজনদের মতে, গ্যাস সিলিন্ডার কীভাবে বিস্ফোরিত হলো, ঘটনার সময় রান্নাঘরে কারা ছিলেন, ইব্রাহিম সেখানে কেন গিয়েছিলেন এবং বিস্ফোরণের আগে তার সঙ্গে কারও বিরোধ হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মামলা করতে নিরুৎসাহিত করা এবং আলামত নষ্টের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পরিবারের ভাষ্য, মামলা হওয়ার পর বংশাল থানা থেকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু মো. মোফাজ্জেল বলেন, ‘মৃতের পরিবারের সদস্যরা সোমবার ব্যাংকে এসেছিলেন। এ বিষয়ে ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইব্রাহিমের মৃত্যুর সঙ্গে মাদক-সংক্রান্ত বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমরা বিষয়টি বিশেষভাবে তদন্ত করব।’

ব্যাংকের রান্নাঘরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকার পরও কীভাবে আগুন লাগল—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে বলেই তিনি জানেন। তারপরও আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে দেখা হবে।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, ইব্রাহিমের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রতিবেদন এখনো পুলিশের হাতে আসেনি।

ইব্রাহিমের পরিবার বলছে, তারা কাউকে আগাম দায়ী করতে চায় না। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এতে কারও অবহেলা, গাফিলতি বা অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত