২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সব জেলার বেকারদের দেবেন কর্মসংস্থান, করবেন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে কীভাবে এই দেশকে জাগিয়ে রাখা যায় সেই ভাবনা থেকেই একটি থিউরি আবিষ্কার করেন ‘এজেআর কুরিয়ার সার্ভিস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামসু উদ্দিন আহমেদ রিয়াদ।
নিজের থিউরি অনুযায়ী, রিয়াদ বিভিন্ন জেলার অর্ধশিক্ষিত বেকারদের চাকরি দেওয়ার নাম করে নিয়ে আসেন ঢাকায়। তাদের কাছ থেকে ব্ল্যাঙ্ক চেক ও ৩-৪টা করে ফাঁকা স্ট্যাম্প জামানত হিসাবে নেন। এরপর চাকরিতে কিছুদিন যেতে না যেতে রিয়াদ বিভিন্ন অজুহাতে তাদের চাকরিচ্যুত করেন। পরবর্তীতে রিয়াদ ফেরেন তার আসল চেহারায়। ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে মোটা অঙ্কের টাকা বসিয়ে দেন চেক ডিজঅনার মামলা। চেক মামলায় রায় হয়ে যাবে ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের থেকে আদায় করেন টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুরিয়ার সার্ভিস নয় যেন মামলার হাট বসিয়েছেন রিয়াদ। যে হাটে একবার ক্রেতা হয়ে ঢুকলে তাকে মামলা মাথায় নিয়ে বাড়ি যেতে হবে।
সম্প্রতি মাসুদ হোসাইনসহ বেশ কয়েক ভুক্তভোগী ডিএমপির পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ করলে ওঠে আসে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ বিষয়ে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাকে মিথ্যা চুরির মামলা দিয়েছে। ১০ লাখ টাকা চুরির মামলায় ১ মাস কারাগারে থেকে জামিনে বের হলে আমার বিরুদ্ধে ১৩ লাখ টাকার একটি চেকের মামলা দেওয়া হয়। চুরির মামলার কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে না পারায় মামলাটি আদালত থেকে খারিজ হয়ে যায়। পরে আমাকে ওই চেকের মামলার রায় হবে বলে ভয় দেখায়। একপর্যায়ে ৪ লাখ টাকায় রফা করি। এই ৪ লাখ টাকা গ্রামের বাড়ি থেকে ধার করে এনে দিলেও আমাকে কোনো লিখিত কাগজ দেওয়া হয়নি। কাগজ চাইলে বলা হয়, পরে আসেন।
আরেক ভুক্তভোগী এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা রুবেল বলেন, আমার নামে প্রথমে ৮ লাখ টাকার একটি চুরির মামলা দেয়। এ মামলায় আমি রংপুরে ৪৪ দিন কারাগারে ছিলাম। পরে জামিনে বের হলে ঢাকার আদালতে আমার বিরুদ্ধে আবার ১৬ লাখ টাকার একটি চেকের মামলা দেয়। মামলা তোলার জন্য অফিসে গেলে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে।
এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের আরেক ভুক্তভোগী সাবেক কর্মকর্তা মফিজদ্দিন বলেন, মামলাবাজ এমডি আমাকে মোট ৫টি মামলা দিয়েছে। তার মধ্যে একটি চুরির মামলা, একটি হাফ মার্ডার মামলা, একটি অপহরণ মামলা আর ২টি চেকের মামলা।
আরেক ভুক্তভোগী মাসুদ হোসাইন বলেন, ২০১১ সালে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলাম। নিয়োগের সময় কোম্পানি আমার থেকে ফেরতযোগ্য একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক রাখে। পরে কোম্পানির বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি দেখে চাকরি ছেড়ে দেই। অব্যাহতির ২ বছর পর কোম্পানিতে থাকা আমার ওই ব্ল্যাঙ্ক চেকে আমাকে ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৬০০ টাকার একটি মামলা দেয়। কাগজে-কলমে কোম্পানির কাছে আমি ৫ মাসের বেতন পাই, কিন্তু সে টাকা না দিয়ে উল্টো আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এসব বিষয়ে জানতে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামসু উদ্দিন আহমেদ রিয়াদের মুঠোফোনে কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।