সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও অনভিপ্রেত বলে আখ্যায়িত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বহিরাগতদের এ ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে নলেজ হাব ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ, হেলথ সিস্টেম অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতিসংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিরের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
আইইডিসিআর রোগ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ৮ থেকে ৯ জন ব্যক্তি পরিচালকের কক্ষে ঢুকে তাকে চেয়ার থেকে টেনে তোলেন এবং মারধর করেন। ঘটনার সময় কক্ষে চিকিৎসকদের বৈঠক চলছিল।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভিডিও ফুটেজে যতটুকু দেখা গেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিচালকের কক্ষে বহিরাগতরা ঢুকে যেভাবে আক্রমণ করেছেন, তা নিন্দনীয়। ঘটনার সময় সেখানে বৈঠক চলছিল এবং গবেষকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনে এ ধরনের শারীরিক আক্রমণ কখনোই কাম্য নয়। সরকার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।
ডা. এম এ মুহিত জানান, সরকার ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। আইনগতভাবে যা যা করণীয়, তার সবই করা হবে। প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও একজন চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে, হামলাকারীর পক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) একজন শীর্ষ নেতার বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ঘটনাটি কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত হামলা কি না এবং হামলাকারীদের সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি ড্যাব সভাপতিকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। তিনি একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং একটি সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর বিশ্বাস, এ ধরনের ঘটনাকে তিনি বা তাঁদের দল কখনোই সমর্থন করবেন না।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার সময় কখনো কখনো বাক্যবিন্যাস বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার কারণে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের রাজনীতিবিদদের মতো দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকে না।
অন্যদিকে, আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলার ঘটনায় ড্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত এক নেতার প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে এবং তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রোগ প্রতিরোধই সরকারের মূল অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী