জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার ও শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে ইতালিতে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শ্রমিক। শ্রমিক সংগঠন ইউনিয়নে সিনদাকালে দি বাসে (ইউনিয়ন অব বেসিক ট্রেড ইউনিয়নস) আয়োজিত দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ৪০টির বেশি শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ফ্রান্স ও স্পেনে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ইতালিতেও এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সামরিক খাতে বাজেট বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধর্মঘটে যোগ দেন ট্রাকচালক, ট্যাক্সিচালক ও কৃষকরাও। স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোম, মিলান ও তুরিনসহ দেশের বড় শহরগুলোতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। রোমে প্রধান রেলস্টেশন থেকে শুরু হওয়া মিছিল ঐতিহ্যবাহী কলোসিয়াম ও অর্থ মন্ত্রণালয় ভবন অতিক্রম করে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা তাঁবু খাটিয়ে সপ্তাহান্তে থাকার পরিকল্পনার কথা জানান। কয়েকটি আবর্জনার বিন রাস্তার ওপর বসিয়ে আগুন দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় একটি বড় দল পার্লামেন্টের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। ইতালির বার্তা সংস্থা আনসা’র তথ্যমতে, বারবার পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করায় আটজনকে আটক করা হয়েছে।
মিলানে বিক্ষোভকারীরা শহরের চক্রাকার সড়কে মিছিল নিয়ে ওঠেন। পরে পলিটেকনিকো দি মিলানো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মিছিল শেষ হয়। বিক্ষোভকারীরা ফ্লেয়ার বহন করেন এবং বিভিন্ন জিনিসে আগুন ধরিয়ে দেন। বন্দরকর্মী, শিক্ষার্থী ও অন্য বিক্ষোভকারী মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ জেনোয়া বন্দরে প্রবেশ করেন। অস্ত্র চালানে বন্দর ব্যবহারের বিরুদ্ধে ইউরোপ ও অন্যত্র যে বিক্ষোভ চলছে, এতে তারা যোগ দেন। পাশাপাশি উপসাগর থেকে কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত সংঘাতে নাবিকদের মৃত্যুর বিষয়টিও তারা তুলে ধরেন। জীবনযাত্রার ব্যয়সহ নানা ক্ষোভ থেকে ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, বাসস্থানের অতিরিক্ত ভাড়া এবং পড়াশোনা শেষের অনিশ্চয়তা তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। রোমে এক কক্ষের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ২০০ ইউরো পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা তাদের পরিবারগুলোর জন্য বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি পরিচালিত সরকার জনসমাবেশ সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জজ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহনকর্মী ও কৃষকদের জন্য ১৭ কোটি ৫২ লাখ ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।