বগুড়ায় ২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চিচিঙ্গা

এক সপ্তাহের ব্যবধানে অর্ধেকেরও বেশি কমেছে শীতকালীন আগাম সবজির দাম। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের মুখে কৃষকরা। অথচ মহানগরের বাজারে একই সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে।

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত বগুড়ায় এবার আগাম শীতকালীন সবজির ভালো ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় এক মাস আগে থেকেই উঠতে শুরু করেছে এসব সবজি। উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি ক্রেতার সংখ্যা। ফলে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম সবজির মোকাম মহাস্থান হাটে দেখা দিয়েছে দরপতন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফুলকপি, মুলা, শিমসহ বিভিন্ন সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। এমনকি চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে মাত্র দুই টাকা কেজি দরে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

অন্যদিকে, পাইকারি বাজারের তুলনায় বগুড়া মহানগরের খুচরা বাজারগুলোতে এসব সবজি প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। মহানগরের ফতেহ আলী, রাজাবাজার, কলেজ বাজার, বিসিক কাঁচাবাজার ও মাটিডালী বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জেলা কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহও বেড়েছে। মহাস্থান হাট থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাজারো কৃষক, ক্রেতা ও বিক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মহাস্থান হাট। হাটের বিভিন্ন স্থানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরনের শীতকালীন সবজি। তবে সরবরাহ বেশি থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে কম দামে সবজি বিক্রি করছেন কৃষকরা।

হাটে বর্তমানে প্রতি মণ চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম পড়ছে মাত্র দুই টাকা। এক সপ্তাহ আগে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া করলা এখন ৩০ টাকা। একই সময়ে ৬০ টাকার ফুলকপি নেমে এসেছে ১৫ টাকায়। ৩০ টাকার মুলা বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা এবং ১৫০ টাকার শিম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া ৪০ টাকার পটল বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা, ৫০ টাকার শসা ৩০ টাকা, ৮০ টাকার মরিচ ৩৫ টাকা, ৫৫ টাকার পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং ১০০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য সবজির দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

হাটে সবজি নিয়ে আসা কৃষকরা জানান, এবার আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে আসায় দাম কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ও পরিবহন খরচও উঠছে না। বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতেই সবজি বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হলেও লোকসান এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় ব্যাপারীরা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় তাঁরা কম দামে কিনতে পারছেন। পরে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় এসব সবজি বিক্রি করে কিছুটা বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁদের জন্য কম দামে কেনাকাটা স্বস্তিদায়ক হলেও কৃষকদের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।

মহাস্থান হাটের ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ হাট থেকে সবজি কিনে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছেন। কাঁচামালের ব্যবসায় লাভ-লোকসান নিত্যদিনের ঘটনা। লাভ হলে যেমন ভালো লাগে, তেমনি লোকসান হলে কষ্ট হয়।

এদিকে বগুড়া মহানগরের বাজারগুলোতে একই সবজি বিক্রি হচ্ছে মোকামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে। সেখানে চিচিঙ্গা কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মুলা ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফতেহ আলী বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল জানান, মহাস্থান হাট থেকে সবজি কিনে আনতে পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ হয়। এ কারণে মোকামের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম কিছুটা বেশি রাখতে হয়।

বগুড়া রাজাবাজার ব্যবসায়ী ও আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, মোকামের তুলনায় খুচরা বাজারে সবজির দাম বেশি থাকে। কোনো সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যায়, আবার সরবরাহ কমলে দাম বেড়ে যায়। তবে তাঁর মতে, গতবারের তুলনায় এবার আগাম শীতকালীন সবজির দাম কম রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত