লোহাগাড়ায় শিক্ষক অপহরণ, পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে স্বরুপ কান্তি দাশ (৫০) নামে এক স্কুলশিক্ষককে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর পুলিশের অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) লোহাগাড়া থানা কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী। এর আগে রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাতকানিয়ার কেরানীহাট গোলচত্বর এলাকা থেকে অপহৃত শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া স্বরুপ কান্তি দাশ লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ওয়ার্ড বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি চট্টগ্রাম শহরের চকবাজার এলাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ৭টার দিকে প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন স্বরুপ কান্তি দাশ। সকাল আনুমানিক ৯টা ৫ মিনিটে তিনি লোহাগাড়ার পদুয়া বাজারে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

পরে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে অপহরণকারীরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী জেলী চৌধুরীকে ফোন করে অপহরণের বিষয়টি জানায়। স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং বিকেল ৩টার মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।

পরবর্তীতে কয়েক দফায় ফোন করে অপহরণকারীরা স্বরুপ কান্তি দাশকে মারধর করে তার কান্নার শব্দ স্ত্রীকে শোনায়। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা নিয়ে সাতকানিয়ার কেরানীহাট গোলচত্বরে যেতে বলে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ছমদ আলী মুন্সী পাড়ার রফিক উদ্দিন (৫৩) এবং একই ইউনিয়নের আলী সিকদার পাড়ার নেজাম উদ্দিন (৪৮)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি ছুরি, একটি গামছা, পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক এবং তিনটি কার্টিজ পেপার উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার দুজন আগে স্বরুপ কান্তি দাশের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। 

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান,এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সকালে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত