বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, অভিবাসন মানে কেবল বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা। তিনি বলেন, এই রেমিট্যান্সের পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের সাধারণ নাগরিকদের কষ্ট ও সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা।
তিনি আজ রাজধানীর ওয়েস্টিন, ঢাকা হোটেলে ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত "অভিবাসন, অধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক ককাসের উদ্বোধন" শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক, এমপি। অনুষ্ঠানে সংসদীয় ককাসের সভাপতি এবিএম মোশাররফ হোসেন, এমপি এবং ককাস সচিবালয়ের সভাপতি সৈয়দ সাইফুল হক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তৃতা প্রদান করেন সংসদীয় ককাসের মহাসচিব মাহমুদা হাবিবা, এমপি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে আমাদের সচেতন হতে হবে। নারী শ্রমিকদের অভিবাসন গন্তব্যে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হয়। আমাদের প্রচলিত আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে অভিবাসন নীতিমালা বাস্তবায়নের সাথে অভিবাসন গন্তব্য দেশগুলোর সাথে অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আলোচনা করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে বিদেশে কর্মী প্রেরণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। শ্রমিক প্রেরণে অব্যবস্থাপনা এবং দালালদের দৌরাত্মের কারণে বিগত বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাস কর্মী প্রেরণ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, এই সর্বদলীয় ককাসের মাধ্যমে সংসদ-সদস্যগণ বিদেশে কর্মী প্রেরণে সহায়তা এবং সরাসরি মাঠপর্যায়ে অভিবাসন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন তদারকি করবেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। প্রবাসী শ্রমিকরা অভিবাসন গন্তব্যে দীর্ঘমেয়াদে নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়ে আসছে। তিনি বলেন, কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোঃ তৌফিকুর রহমান, উইটনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি শিপা হাফিজা, আইএলও এর জাতীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রাহনুমা সালাম খান, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার শাহরিন মুনির এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ দিপ্তা রক্ষিত প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।
প্যানেল আলোচকগণ প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন, মনোসামাজিক ও আর্থসামাজিক সুরক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, মানবপাচার বন্ধে সরকারের অভিবাসন নীতির প্রয়োগ এর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ককাসের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ-সদস্যবৃন্দ, অভিবাসন বিশ্লেষক ও আলোচকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন।