ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি এবং সরকারি সেবার সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ রাজপথে নেমে বিশাল বিক্ষোভ ও ধর্মঘট প্রদর্শন করেছে, যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাঁচটি প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে দেশের প্রায় ২২০টি স্থানে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সূত্র: সিএনএন
গত সেপ্টেম্বর মাসে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়গুলোর অব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব এবং শিক্ষার পরিবেশের অবনতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রথম এই আন্দোলন শুরু করেন।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও যোগ দেয়। ফলে এটি ক্রমান্বয়ে একটি বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হলো—নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করা এবং সরকারি সেবা সুরক্ষিত রাখা। সিএফডিটি ইউনিয়নের নেতারা শুধু ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোই নয়, বরং প্রতি মাসের নিট বেতন অন্তত ১০০ ইউরো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
বেশিরভাগ মিছিল শান্তিপূর্ণ হলেও প্যারিস, লিওঁ, নঁত এবং তুলুজের মতো বড় শহরগুলোতে কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের দমাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। এর আগে গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে বেশ বড় ধরনের দাঙ্গা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে প্রায় ৭০,০০০ পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে।
এই আন্দোলনের কারণে দেশটির স্কুল-কলেজ, রেল যোগাযোগ এবং অন্যান্য জরুরি সেবা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর থেকেই কর্তৃপক্ষ এবং দোকানদাররা দেশব্যাপী এই প্রতিটি বিক্ষোভে একই ধরনের দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত ছিল।
তবে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেন, নান, লিওঁ এবং মার্সেই সহ বেশ কয়েকটি শহরে পুলিশ এবং উগ্রপন্থী ও চরম-বামপন্থী কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছাড়া দিনটি বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই কেটেছে। সব মিলিয়ে পুলিশ ৪৪৮ জনকে আটক করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিওঁতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্যদিকে, রেন শহরে একটি হোটেলে ভাঙচুর, পুলিশের দিকে বস্তু নিক্ষেপ এবং প্রতিবাদী শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের ওপর ‘হিংস্রভাবে হামলা’ চালানোর অভিযোগে ‘কয়েক ডজন’ আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফের উত্তাল ফ্রান্স, কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ