ট্রাম্পকে সমর্থনের খেসারত দিতে হতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্টদের

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে গত দুই বছর ব্যস্ত ছিলেন সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জনমত তৈরি করায় এবার নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন তাঁরা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে পাওয়ার পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের তলব এবং বিভিন্ন নথিপত্র চাওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি। 

ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী বিজয়ের পর যেসব প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের জন্য এমন পরিস্থিতি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন ইলন মাস্ক, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসসহ প্রযুক্তি জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

ট্রাম্পকে সমর্থন দিতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছিলেন মাস্ক। তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ২৫ কোটি ডলারের বেশি খরচ করেন তিনি। পরে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ ডিওজিইর (ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি) দায়িত্বও নেন মাস্ক। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে আরও প্রায় ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেন তিনি।

এর আগে ২০২০ সালে অ্যামাজন, অ্যাপল, ফেসবুক ও গুগলের প্রধান নির্বাহীদের বাজারে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহির জন্য কংগ্রেসে তলব করা হয়েছিল। এবার একই পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন টেসলার ইলন মাস্ক, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান কিংবা এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এআই উপদেষ্টাদের একজন হুয়াং।

মিশিগান থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট এল-সাইয়েদ সবচেয়ে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলোর উন্নয়ন পুরোপুরি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সুপারইন্টেলিজেন্স বা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম এআইয়ের উন্নয়ন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

এদিকে কংগ্রেসে নিজেদের স্বার্থ তুলে ধরতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সাবেক ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছে মেটা। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, রিপাবলিকান শিবির থেকেও আসছে একই ধরনের বক্তব্য।

রক্ষণশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ফ্যামিলি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো ড্যানিয়েল কোচরান এএফপিকে বলেন, ‘বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যে রাজনৈতিক দল কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, ভোটাররা এখন তাদেরই পুরস্কৃত করতে প্রস্তুত।’

তাঁর মতে, এবারের নির্বাচনে এআইয়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার স্থাপন, কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব এবং শিশুদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

এনবিসি নিউজের নির্বাচনী বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ ভোটারের কাছে এআই ও ডেটা সেন্টার ছিল ‘গুরুত্বপূর্ণ অথবা অন্যতম প্রধান বিষয়’।

তবে ট্রাম্পবিরোধী জনমতকে প্রযুক্তিবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন চেম্বার অব প্রগ্রেসের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম কোভাসেভিচ। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত প্রভাবশালী এই মধ্যপন্থী জোটের প্রধান বলেন, ‘ট্রাম্পবিরোধী ঢেউকে প্রযুক্তিবিরোধী জনরায় বলে ভুল করা উচিত হবে না।’ 

অন্যদিকে ট্রাম্পপন্থী সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারীদের জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘অল-ইন’-এর সহ-উপস্থাপক চামাথ পালিহাপিটিয়া নির্বাচনের রাতের এক সরাসরি সম্প্রচারে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ডুবিয়ে দেওয়ার মতো একটাই বিষয় আছে, সেটি হলো এআই বাণিজ্য। আর এআই বাণিজ্যকে ধ্বংস করার একমাত্র উপায় হলো ডেটা সেন্টারগুলোকে থামিয়ে দেওয়া।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত